প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিমের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে আইন অনুযায়ী শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা ‘আমার ভাই মরলো কেন? প্রশাসন জবাব দে’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই’, ‘অপ্রতিম হত্যার বিচার চাই’—এ ধরনের স্লোগান দেন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
কুবি শিক্ষার্থীরা চারটি আল্টিমেটাম প্রদান করেন। প্রথমত, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে ১২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জনসম্মুখে উপস্থাপন করতে হবে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কুমিল্লা শহর ও আশপাশের এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, কুমিল্লা পুলিশ প্রশাসন, সদর দক্ষিণ থানা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বশীলদের স্বীকার করতে হবে। তৃতীয়ত, শিক্ষার্থীদের জরুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করতে হবে। চতুর্থত, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কুমিল্লা প্রশাসনকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় মহাসড়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
কুবি শিক্ষার্থী হাসান অন্তর বলেন, ‘আমরা ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছি। এই ১২ ঘণ্টার মধ্যে এসপিকে আমাদের কাছে এসে জানাতে হবে, তদন্তে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ১২ ঘণ্টার মধ্যে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে আমরা মহাসড়ক অবরোধ করব। এটা শুধু একটি ঘটনার বিষয় নয়; সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আমরা দেখব, প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়। এরপর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অবস্থান অনুযায়ী পরবর্তী কর্মসূচি জানানো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অবাক করার বিষয় হলো, ঘটনার পর সিসিটিভির ফুটেজ বের করা এবং একজনকে আটক করার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরই ভূমিকা রাখতে হয়েছে। ফরেনসিক টিমও দীর্ঘ সময় পর ঘটনাস্থলে এসেছে। সকালে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরও যদি গাড়ির অভাবে ফরেনসিক টিম আসতে না পারে, তাহলে প্রশাসনের দায়িত্ব কী—এ প্রশ্ন থেকেই যায়।’
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এখন আমাদের শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না প্রশাসন। আমি তো এটাই বুঝতে পারছি না। অপ্রতিম আমাদের ছোট ভাই। ওকে আমি নিজের চোখে দেখেছি—রাস্তার মধ্যে খেলতে দেখেছি, ওর মায়ের সঙ্গে কথা বলতে দেখেছি। আজ অপ্রতিম নেই, এটা আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না।
‘ওর মা আমাদের মাতৃতুল্য। তিনি আমাদের যেভাবে আদর করেন, তার নিজের সন্তানকে তিনি কতটা আদর করতেন, সেটা ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে। এরকম লাখো লাখো মা প্রতিদিন নিজের সন্তানকে হারাচ্ছেন। কিন্তু আমাদের অথর্ব প্রশাসন কী করছে? বসে বসে আঙুল চুষছে তারা। এদের ধিক্কার। ধিক্কার, ধিক্কার।’
উল্লেখ্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে অপ্রতিমের লাশ সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ের একটি টিলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে কোটবাড়ির বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। পরে তার মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সামাজিক বনায়ন এলাকায় শনাক্ত হয়। শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেখানে তাকে খুঁজতে বের হলে স্থানীয় এক ব্যক্তি পাহাড়ের পাশে একটি শিশুর মরদেহ পড়ে থাকার তথ্য দেন। পরে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অপ্রতিমের লাশ শনাক্ত করেন। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনা তদন্ত করছে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন