প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একদিকে অর্থ পাচার রোধে সরকারের তৎপরতার দাবি, অন্যদিকে দেশের বাইরে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার নানা উদ্যোগের মধ্যেই নতুন একটি পরিসংখ্যান আলোচনার সৃষ্টি করেছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ ৪১ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট আমানতের পরিমাণ পৌঁছেছে প্রায় ১২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকায়, যা গত এক দশকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক’ (এসএনবি)-এর প্রকাশিত ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
এসএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালশেষে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশি নাগরিক ও ব্যাংকগুলোর মোট জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩৪ দশমিক ২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ফ্রাঁ ১৫২ টাকা হিসাবে) এই পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা।
ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, এটি সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের অর্থ জমার ক্ষেত্রে এযাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে ২০২১ সালে আমানতের পরিমাণ ছিল ৮৭১ দশমিক ১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ, যা ছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ। যদিও ২০২২ ও ২০২৩ সালে এই জমার পরিমাণ নাটকীয়ভাবে কমেছিল, ২০২৪ সালের পর ২০২৫ সালে আসার পর তা আবার এক নজিরবিহীন উল্লম্ফন প্রত্যক্ষ করেছে।
তবে পরিসংখ্যানের অধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হলো, এই ৪১ শতাংশ উল্লম্ফনের সিংহভাগই এসেছে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। ২০২৪ সালে যা ছিল ৫৭৬.৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ, ২০২৫ সালে এসে তা ৪৩ শতাংশ বেড়ে ৮২২.৭ মিলিয়ন ফ্রাঁতে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মোট জমার ৯৮.৬ শতাংশই প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যাংকিং খাতের অর্থ।
অন্যদিকে, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের জমা আগের বছরের (১২.৬ মিলিয়ন ফ্রাঁ) তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১১.৪ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে।
দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ এখন টাকা জমার দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ আমানত নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ভারত, যদিও আগের বছরের তুলনায় ভারতীয়দের আমানত ৮ শতাংশ কমেছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশের আমানত বেড়েছে ৪১ শতাংশ। আমানত বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে কেবল আফগানিস্তান (৪৮.২ শতাংশ)।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন