প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে রাস্তার পাশে পার্কিং করে রাখা ‘নীলাচল’ পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, এই ঘটনা ঘটে ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোদনাইল এসও ঈদগাহ মাঠের পশ্চিম পাশে সিদ্ধিরগঞ্জ-চাষাঢ়া সড়কসংলগ্ন এলাকায়।
বাসটির মালিক ও মামলার বাদী মো. আল-আমিন এজাহারে উল্লেখ করেন যে, তিনি তার ব্যবসায়িক অংশীদার আতিকুর রহমানের সঙ্গে ‘নীলাচল’ পরিবহনের একটি বাস পরিচালনা করেন। ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৩৪৭১ নম্বরের বাসটির আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
এজাহার অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো ২০ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে বাসটির চালক ও হেলপার সেটি গোদনাইল এসও ঈদগাহ মাঠের পশ্চিম পাশে সড়কের পাশে পার্কিং করে চলে যান। এ সময় বাসের দরজায় তালা দেওয়া ছিল এবং জানালা বন্ধ ছিল।
বাদীর অভিযোগ, পরদিন রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, একদল ব্যক্তি বাসটিতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের পর আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বাসটি আগুনে পুড়ে যাওয়া অবস্থায় দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা তাঁতী লীগের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা লিটনের নেতৃত্বে অন্য আসামিরা এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে বাদী স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয় যে, হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সড়কে অবস্থান করে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং একপর্যায়ে বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। বাদীর দাবি, আগুনে বাসটির প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এজাহারে লিটন ছাড়াও আসাদুল্লাহ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদুল্লাহ, জামান, রাকিব, সিয়াম হোসেন, নাতিয়া মুন্না, পাভেল, আনোয়ার হোসেন, মোস্তফা হোসেন, জসিম উদ্দিন, সাইফুদ্দীন, আব্দুল, মাসুম বিল্লাহ পৃথিবী, আবুল কালাম আবু, আরিফ হোসেন ও স্বপনসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে আরও দাবি করা হয়েছে যে, ঘটনার সময় অভিযুক্তরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুড়ে যাওয়া বাসটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মজিবুর রহমান বলেন, “আমরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন