প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি নজিরবিহীন পরিবর্তন দেখা গেছে। ভোটকেন্দ্রে রেকর্ড সংখ্যক আরব ভোটারের উপস্থিতি ঘটেছে, যা তীব্র হতাশা, নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং চরম ডানপন্থী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের ফলস্বরূপ। এর ফলে, দেশটির আরব-প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো—‘রা’ম’ (Ra'am) এবং ‘জয়েন্ট লিস্ট’ (Joint List)—ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে রেকর্ড ১৯টি আসন অর্জন করে সম্ভাব্য ‘কিংমেকার’ বা ভাগ্যনিয়ান্ডার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি রাজনীতিতে উপেক্ষিত ও মূলধারার বাইরে থাকা আরব নাগরিকরা এবার নিজেদের ভোটাধিকারের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে শুরু করেছেন। গাজা সংঘাতের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি, পশ্চিম তীরের উত্তেজনা এবং আরব জনপদগুলোতে বাড়তে থাকা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারের উদাসীনতা ভোটারদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। এর ফলস্বরূপ, নেগেভ মরুভূমি থেকে শুরু করে উত্তর গ্যালিল পর্যন্ত আরব অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে ভোটারদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার মিত্ররা আরব দলগুলোর এই উত্থানকে ঘিরে কড়া সমালোচনা বজায় রেখেছেন। নেতানিয়াহু এই জোটের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেও, আরব দলগুলোর নেতারা বলছেন যে তাদের মূল লক্ষ্য ইসরায়েলি সমাজের মৌলিক নাগরিক অধিকার রক্ষা করা, বৈষম্য দূর করা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপদ রাখা।
তবে, এই ১৯টি আসন কোনো স্থায়ী জোট সরকার গঠনে কতটা ভূমিকা রাখতে পারবে, তা নিয়ে এখনো রাজনৈতিক সমীকরণ জটিল রয়েছে। কারণ অনেক জায়নিস্ট ইহুদি রাজনৈতিক দল আরব দলগুলোর সাথে সরকার গঠনে ঐতিহ্যগতভাবে অনীহা প্রকাশ করে থাকে। তা সত্ত্বেও, বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে এবং সরকার গঠনের পথ সুগম করতে এই আরব দলগুলোর সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন