প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ক্রিকেটের বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলোকে আরও রোমাঞ্চকর ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ করে তুলতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এডিনবরায় আইসিসির বার্ষিক সভায় পুরুষদের ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফরম্যাটে বড় ধরনের পরিবর্তনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব বৃদ্ধি করা, যাতে কোনো ম্যাচই নিষ্প্রভ বা আনুষ্ঠানিক থাকার সুযোগ না পায়।
একই সঙ্গে সহযোগী দেশগুলোর জন্য বৈশ্বিক মঞ্চে খেলার সুযোগকে আরও সহজ করার রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। নতুনভাবে ১৪ দলের ওপর ভিত্তি করে হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এতে 'সুপার সিরিজ' ও 'সুপার সেভেন' অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ১৪ দলের ওয়ানডে বিশ্বকাপ বহাল থাকলেও পুরো খেলায় ফরম্যাটের পরিবর্তন করা হয়েছে। আগের যেখানে ৭টি করে দল নিয়ে দুটি গ্রুপে খেলা হতো, সেখানে এখন যুক্ত হচ্ছে তিনটি ধাপ।
অনুমোদিত নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী প্রথম রাউন্ড সুপার সিরিজ (রাউন্ড রবিন) ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর দলের খেলা হবে। শীর্ষ দলটি দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে। পুরনো ফরম্যাটে প্রথম রাউন্ডে সরাসরি গ্রুপ পর্বে খেলা হতো। নতুন অনুমোদিত দ্বিতীয় রাউন্ডে গ্রুপ পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এতে দুটি গ্রুপ, ছয়টি করে দল, মোট ৩০টি ম্যাচ হবে।
প্রত্যেক গ্রুপের শীর্ষ তিনটি এবং দুই গ্রুপ মিলিয়ে পরবর্তী সর্বোচ্চ পয়েন্টধারী দল সুপার সেভেনে যাবে। পুরোনো ফরম্যাট অনুযায়ী দ্বিতীয় রাউন্ডে সরাসরি সুপার সিক্স হতো, যেখানে দুটি গ্রুপ, তিনটি করে দল যেত। নতুন নিয়ম অনুযায়ী তৃতীয় রাউন্ড হচ্ছে সুপার-সেভেন (রাউন্ড রবিন), যেখানে ৭টি দল একে অপরের মুখোমুখি হবে ২১টি ম্যাচে।
আগে সুপার সিক্সে ৯টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতো। সুপার সেভেনের শীর্ষ ৪টি দল সরাসরি সেমিফাইনালে খেলবে। ১ নম্বর দল খেলবে ৪ নম্বরের বিপক্ষে এবং ২ নম্বর দল খেলবে ৩ নম্বর দলের বিপক্ষে। আগে সুপার সিক্সের শীর্ষ দুটি করে দল সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতো। আইসিসির মতে, এই নতুন নিয়মে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব আকাশচুম্বী হবে। বিশেষ করে 'সুপার সেভেন' পর্বের রাউন্ড-রবিন ফরম্যাটে দলগুলোর শক্তির প্রকৃত পরীক্ষা হবে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২০ দলের প্রতিযোগিতায় যুক্ত হচ্ছে 'সুপার ১০' ও 'এলিমিনেটর'। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সহযোগী দেশগুলোর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর আইসিসি ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণেও বড় পরিবর্তন এনেছে। ২০ দলের এই টুর্নামেন্টে এখন দ্বিতীয় পর্বে আগের চেয়ে বেশি দল খেলার সুযোগ পাবে। গ্রুপ পর্বে আগে ৫টি দল নিয়ে ৪টি গ্রুপ ছিল, যেখানে মোট ৪০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতো।
নতুন নিয়মে ৪টি দল নিয়ে ৫টি গ্রুপ হবে, খেলবে ৩০টি ম্যাচ। প্রতি গ্রুপ থেকে ২টি করে দল পরবর্তী রাউন্ডে যাবে। দ্বিতীয় পর্বে আগে 'সুপার এইট' হতো, এখন হবে 'সুপার টেন'। ৫টি করে দল নিয়ে দুটি গ্রুপে ২০টি ম্যাচ খেলা হবে। সেমিফাইনালের সেমিফাইনালের সমীকরণ হিসেবে, সুপার টেনের দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সরাসরি সেমিফাইনালে চলে যাবে। তবে চমক থাকবে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর জন্য। গ্রুপের ২য় স্থানে থাকা দল অপর গ্রুপের ৩য় স্থানে থাকা দলের বিরুদ্ধে 'এলিমিনেটর' ম্যাচ খেলবে। এই দুটি এলিমিনেটরের জয়ী দল বাকি দুটি সেমিফাইনালের টিকিট পাবে।
২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের রোডম্যাপও চূড়ান্ত করেছে আইসিসি। ২০২৬ বিশ্বকাপের বিশেষ পরিস্থিতির কথা মনে রেখে স্কটল্যান্ড সরাসরি 'ইউরোপ রিজিওনাল ফাইনালে' খেলার সুযোগ পাবে। অন্য যে দলগুলো ২০২৬ বিশ্বকাপে খেললেও সরাসরি ২০২৮ সালের টিকিট পায়নি, তারা গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারে খেলবে। এই গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারে আঞ্চলিক পর্ব থেকে আরও ৮টি দল উঠে আসবে।
আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপ থেকে ২টি করে; আমেরিকা এবং ইএপি অঞ্চল থেকে ১টি করে। গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারের প্রতিটি অঞ্চলের শীর্ষ দল এবং সামগ্রিক তালিকার পরবর্তী সেরা ৩টি দল ২০২৮ বিশ্বকাপের মূল পর্বে কোয়ালিফাই করবে। সহযোগী দেশগুলোর পারফরম্যান্সের মান বৃদ্ধি করার জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ১৬ দলের একটি নতুন বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আইসিসি বোর্ড এতে নীতিগত অনুমোদন দিলেও আগামী নভেম্বরে আইসিসির অর্থ ও বাণিজ্যিক কমিটি এটি চূড়ান্তভাবে পর্যালোচনা করে সবুজ সংকেত দেবে। আইসিসির এই নতুন পরিকল্পনা ক্রিকেটকে কতটা রোমাঞ্চকর করে তোলে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন