প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সুইডিশ পপ তারকা জারা লারসন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, কারণ তাঁর একটি জনপ্রিয় গান হোয়াইট হাউসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিওতে ব্যবহার করা হয়েছে। মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অভিযানের দৃশ্যসহ ওই ভিডিওতে লারসনের ‘মিডনাইট সান’ গানটি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
পরবর্তীতে গানটি ভিডিও থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের টিকটক অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি এখনো উপলব্ধ রয়েছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘নেভার এন্ডিং ডিপোর্টেশনস’ (শেষহীন নির্বাসন), যা লারসনের গানের ‘নেভার-এন্ডিং মিডনাইট সান’ কথার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাতে লারসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় তিন মিনিটের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। তিনি হোয়াইট হাউসের ভিডিওটিকে ‘অমানবিক’ বলে অভিহিত করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে গান ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করার শিল্পীদের তালিকায় তিনি যুক্ত হয়েছেন। এর আগে সাবরিনা কার্পেন্টার ও আরিয়ানা গ্রান্ডেসসহ অন্যান্য শিল্পীরা একই ধরনের আপত্তি জানিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের ওই ভিডিওতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের একাধিক দৃশ্য রয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কর্মকর্তারা কয়েকজন ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে গাড়িতে তুলে নিচ্ছেন।
লারসন তাঁর প্রতিক্রিয়া ভিডিওতে মূল ভিডিওর একটি অংশ পুনরায় প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তাঁকে কপালে আঙুল দিয়ে ‘এল’ আকৃতি তৈরি করতে দেখা যায়। টিকটকে পোস্ট করার পর তাঁর প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি ইতিমধ্যে ৪২ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেন, হোয়াইট হাউসের ভিডিওটি ‘খুবই অমানবিক’।
লারসন বলেন, ‘এই ভিডিওতে যাঁদের দেখা যাচ্ছে, তাঁরা বাস্তব মানুষ।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই মানুষদের অধিকাংশই কাগজপত্রহীন অভিবাসী। তাঁরা সাধারণ মানুষ, তাঁদের চাকরি আছে এবং তাঁরা শুধু আরও ভালো ভবিষ্যতের জন্য চেষ্টা করছেন।’
লারসন অভিযোগ করেন, হোয়াইট হাউস তাঁর গান ব্যবহার করে বিষয়টিকে যেন ‘হাসি-তামাশায়’ পরিণত করেছে। তাঁর ভাষায়, ‘সবকিছু কীভাবে মিমের মতো এবং “হা-হা-হা” হয়ে যাচ্ছে, সেটাই অবিশ্বাস্য।’
তিনি আরও দাবি করেন, হোয়াইট হাউস তাঁর গান ব্যবহার করে মানুষের মধ্যে ‘বিভাজন’ তৈরি করার চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, ‘মিডনাইট সান’ গানের কথা মূলত মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যকার সম্পর্কের প্রতিফলন।
এ বছর এর আগে লারসন তাঁর গান ব্যবহারের ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করেছিলেন। সে সময় তাঁর জনপ্রিয় গান ‘লাশ লাইফ’ ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নাচের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছিল।
হোয়াইট হাউসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টকে এর আগে শিল্পীদের আপত্তির মুখে একাধিক গান সরিয়ে নিতে হয়েছে। আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশিত একটি রিল থেকে টেলর সুইফটের মৌসুমি গান ‘আগাস্ট’ সরিয়ে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, গায়িকা অলিভিয়া রদ্রিগো তাঁর একটি গান ব্যবহারের প্রতিবাদ করার পর সেটিও একটি ভিডিও থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। রদ্রিগো ওই ব্যবহারের ঘটনাকে ‘বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণা’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
এ ছাড়া সাবরিনা কার্পেন্টার ও আরিয়ানা গ্রান্ডেও পৃথক ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্টে তাঁদের গান ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
বিবিসি অবলম্বনে
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন