প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বৈশ্বিক সংঘাত, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং জ্বালানি সংকটের ফলে তৈরি হওয়া বহুমাত্রিক চাপের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নারী ও কন্যাশিশুদের সুরক্ষা এবং ক্ষমতায়নে জাতিসংঘ নারী সংস্থার (ইউএন উইমেন) আরও জোরদার সহযোগিতা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব এবং ইউএন উইমেনের উপ-নির্বাহী পরিচালক নিয়ারাডজাই গুম্বোনজভান্ডার সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে, এবং এর ফলে দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি রোহিঙ্গাদের দ্রুত তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রত্যাবাসনের পর বিশেষ করে নারী ও কন্যাশিশুরা যেন একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে পারে, জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পায় এবং তাদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়, সে লক্ষ্যে ইউএন উইমেনের আরও সক্রিয়, কার্যকর এবং জোরালো ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।
উপদেষ্টা আরও বলেন, চলমান বৈশ্বিক সংকটের বহুমাত্রিক প্রভাব বাংলাদেশের ওপর উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে সরকারের ফিসকাল স্পেস ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কঠোর শর্ত ও নীতিমালা কারণে অনুদান এবং সহজ শর্তের ঋণপ্রাপ্তির ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, এবং অনেক স্বল্পোন্নত দেশ এখন ঋণচাপের মুখোমুখি হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে নারী এবং কন্যাশিশুদের সুরক্ষার পাশাপাশি ক্ষমতায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরও জোরদার করতে ইউএন উইমেনের কার্যকর ও সম্প্রসারিত সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের নারী-কেন্দ্রিক উন্নয়ন উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরে ড. তিতুমীর বলেন, পরিবারে নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড চালু, মেয়েদের স্নাতকোত্তর শিক্ষা অবৈতনিক করা, প্রজনন ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং সর্বজনীন জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নারীর ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক অংশগ্রহণকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
ইউএন উইমেনের উপনির্বাহী পরিচালক নিয়ারাডজাই গুম্বোনজভান্ডা নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রশংসা করেন। সেই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড উদ্যোগকে একটি উদ্ভাবনী এবং নারী-কেন্দ্রিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি হিসেবে অভিহিত করেন।
কক্সবাজার সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা, লিঙ্গসমতা, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউএন উইমেনের সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন