প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দলের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দুই বিধায়ক—ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে। দলের সহসভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিলের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
তৃণমূলের সূত্রমতে, ই-মেইল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ওই সিদ্ধান্ত দুই বিধায়কের কাছে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার একটি বিতর্কিত স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে রাজ্য সরকারের সদর দপ্তর নবান্নে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, বিধানসভার স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূলের এই দুই বিধায়ক। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিধানসভার সচিবালয় থানায় মামলা করা হয়েছে। এরপর বিষয়টির তদন্তে রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) যুক্ত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের ১৫ মিনিটের মধ্যে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে তৃণমূল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বহিষ্কারের পর প্রতিক্রিয়ায় সন্দীপন সাহা বলেন, "যারা অনৈতিক কাজ করে দল তাদের সমর্থন দেয়, আর যারা নৈতিক অবস্থান নেয় তাদের বহিষ্কার করা হয়।" তিনি দাবি করেন, একটি হাজিরা খাতার স্বাক্ষরকে প্রস্তাব অনুমোদনের স্বাক্ষর হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা তারা জানতেন না।
নিয়ম অনুযায়ী, বহিষ্কারের পর দুই বিধায়ক এখন ‘স্বতন্ত্র’ বা দলহীন সদস্য হিসেবে বিধানসভায় থাকবেন। ফলে রাজ্যসভা নির্বাচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা দলের হুইপ বা নির্দেশ মানতে বাধ্য থাকবেন না। বলতেই হবে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনে এটি প্রথম বহিষ্কারের ঘটনা নয়। ২০১৪ সালে সিপিএমের হিসেবে রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। কিন্তু ২০১৭ সালে বিভিন্ন অভিযোগের কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘ সময় দলহীন সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে প্রথমে রাজ্যসভায় এবং পরে বিধানসভায় নির্বাচিত হন।
দুই বিধায়কের বহিষ্কারের পর দলের মুখপাত্র ও বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন। সেখানে তিনি নাম উল্লেখ না করেই দলবিরোধী অবস্থান নেওয়ার সমালোচনা করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঋতব্রত ও সন্দীপনের নাম উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, "দলের প্রতীক ও নেত্রীর জনপ্রিয়তা ব্যবহার করে নির্বাচিত হওয়ার পর এত দ্রুত দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ কেন তোলা হলো?"
কী এই স্বাক্ষর বিতর্ক? গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ৬ মে দলীয় সভায় নির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই বৈঠকে পরিষদীয় দলের নেতা, উপনেতা ও মুখ্যসচেতক নির্বাচনের দায়িত্ব তার ওপর ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এরপর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক হিসেবে মনোনীত করা হয়। এ বিষয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বিধানসভায় পাঠানো হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, এসব পদে নির্বাচন পরিষদীয় দলের আনুষ্ঠানিক বৈঠকেই সম্পন্ন হতে হয়। পরে ১৯ মে আরেকটি বৈঠকে বিধায়কদের দিয়ে একটি নথিতে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, ওই স্বাক্ষর ১৯ মে নেওয়া হলেও তা ৬ মের বৈঠকের কার্যবিবরণী হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই অভিযোগ থেকেই বর্তমান বিতর্কের সূচনা হয়েছে।
ঘটনার তদন্তে সিআইডি কিছু বিধায়কের বাড়িতে যায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, তাপস মাইতি এবং বাহারুল ইসলাম। বিশেষ করে বাহারুল ইসলামের স্বাক্ষর নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, ৬ মে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তদন্তকারীদেরও তিনি একই তথ্য জানিয়েছেন। তার ভাষ্য হলো, ভোট-পরবর্তী সহিংসতার কারণে সেদিন তিনি নিজ এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
এদিকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, কাউকে জোর করে স্বাক্ষর করানো হয়নি। তবে বাহারুল ইসলাম একটি স্বাক্ষর দেখে সেটি তার নয় বলে দাবি করেছেন। স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল সিআইডি। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তিনি হাজির হননি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন