প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাটি ব্যবসার কারণে স্থানীয় হিরু খোরশেদের পেছনে লেগে ছিল। বারবার মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে, যাতে এ ব্যবসা না করেন। "মাটি ব্যবসার কারণে আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। আমার বাবা মারা যাওয়ার আগে বলেছে হিরু, ওয়ালিদ, সোহাগ।" কথাগুলো বললেন লক্ষ্মীপুরে নিহত মাটি ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমের একমাত্র মেয়ে প্রেমা আক্তার।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দিলশাদপুর গ্রামে খোরশেদ আলমকে গুলি করে হত্যা করে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। তার বুকে তিনটি গুলির চিহ্ন ছিল।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে নিহত খোরশেদ আলমের মেয়ে প্রেমা বলেন, "আমার বাবাকে ঘর থেকে ডেকে নেওয়ার দুই মিনিট পরই তিনটি গুলির আওয়াজ শোনা যায়। দৌঁড়ে গিয়ে দেখি বাবা মাটিতে পড়ে আছে, মাটি ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই আমার বাবাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমার বাবা খোরশেদ ঘরে ছিল। মজিদ আর মোরশেদ আমার বাবাকে ডেকে নিয়ে যায়। তাদের সামনে ডাবের গাড়ি যাচ্ছে, পিছনে তাদের তিনজনকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। যাওয়ার ২ মিনিট পরই গুলির তিনটি আওয়াজ শোনা যায়। আওয়াজ শুনে ঘটনাস্থল যাওয়ার পথে মোরশেদ আর মজিদ দৌঁড়ে এসে বলছে, যে ওয়ালিদ আর সোহাগ আমার বাবাকে গুলি করেছে। সঙ্গে সঙ্গে গেলেও আমি কাউকে দেখিনি। গিয়ে দেখি আমার বাবা মাটিতে পড়ে আছে। পরে আমার মাও সেখানে আসে। আমার বাবা তখন ওয়ালিদ ও সোহাগের নাম বলেছে।"
প্রেমা আক্তার বলেন, "আমার বাবা একসময় বিএনপির কর্মী ছিল। বিএনপি করার কারণে ১৭ বছর আওয়ামী লীগের আমলে নানান মিথ্যা মামলা খেয়েছে। বিএনপি-আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে তাকে মারা হয়নি। যদি রাজনীতিকে কেন্দ্র করে মারা হতো, তাহলে তিনি আওয়ামী লীগের সময় মারা যেতো। মূলত উনি মাটির ব্যবসা করতো। মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ব্রিক ফিল্ডের মালিক হিরুসহ তার অন্যান্য লোকেরা আমার বাবা পিছে লেগে গেছে। এর আগে মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বারবার ধমক দিয়েছে, মেরে ফেলবে। যাতে মাটির ব্যবসা না করে। অন্য কোন কারণ আছে কিনা আমি জানি না। তবে মূল কারণ মাটির ব্যবসা। আমার বাবাও মারা যাওয়ার আগে বলে গেছে হিরু, ওয়ালিদ, সোহাগ। এখন বাকিটা তাদের গ্রেফতার করলে জানা যাবে।"
খোরশেদ হত্যায় বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে তার স্ত্রী আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৩ জনের নামে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। এর আগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইব্রাহিম ছুট্টু ও মাসুদ রানাকে আটক করে।
গ্রেফতার ছুট্টু সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলশাদপুর গ্রামের বক্স আলী ভূঁইয়া বাড়ির মৃত সৈয়দ আহম্মদ ভূঁইয়ার ছেলে এবং মাসুদ বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের রাধাপুর গ্রামের তোফায়েল আহমেদের ছেলে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
এদিকে নিহত খোরশেদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, "খোরশেদ হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন