প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লর্ডসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ১১৫ রানের দুর্দান্ত জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। ড্রেসিংরুমে তখন উৎসবের আমেজ বিরাজমান ছিল।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক বেন স্টোকস বলেছিলেন, ‘ছেলেদের সাথে এক পাত্র কড়া বিয়ারে চুমুক দেওয়ার আগ পর্যন্ত আমার মুখে চওড়া হাসি ফুটছে না।’ কিন্তু সেই হাসির আড়ালে যে সৃষ্ট হয়েছে এক বড় ঝড়, তা কিভাবে জানা যাবে?
এই ‘বিয়ার উৎসব’ এখন পর্যন্ত রূপ নিয়েছে এক মহাবিতর্কে। নাইটক্লাবের একটি অপ্রীতিকর ঘটনায় আজ টালমাটাল হয়ে দাঁড়িয়েছে ইংলিশ ক্রিকেট। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে অধিনায়ক বেন স্টোকস ও পেসার গাস অ্যাটকিনসন এখন তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন।
পরিবর্তিত পরিস্থিতি এতটাই অস্বচ্ছ যে, স্টোকস টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন। ওভালের দ্বিতীয় টেস্টে তাদের দলে থাকা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার দিবাগত শেষ রাতে (সোমবার ভোর)। লর্ডস টেস্ট জয়ের পর লন্ডনের একটি নাইটক্লাবে উদযাপনে ছিল স্টোকস ও অ্যাটকিনসন।
সেখানেই সারেসেন্স রাগবি ক্লাবের খেলোয়াড়দের সাথে তাদের মুখোমুখি হওয়া ঘটেছিল। সারেসেন্সও সেখানে তাদের মৌসুম শেষের পার্টি আয়োজন করছিল।
ইএসপিএন-এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, সারেসেন্সের এক একাডেমি খেলোয়াড়ের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন ইংলিশ পেসার গাস অ্যাটকিনসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে জড়াতে হয়েছিল স্টোকসকেও। যদিও মারামারির ঘটনা ঘটেনি, এবং দুই ক্রিকেটারের কেউ আহত হননি, তবুও ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) বিষয়টিকে ‘দলের আচরণবিধি লঙ্ঘন’ হিসেবে দেখছে।
ইসিবি এই ঘটনার ব্যাপারে মোটেও হালকা ভাবে নিচ্ছে না। তারা সোমবার সন্ধ্যায় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট শেষ হওয়ার পর দলের আচরণবিধি লঙ্ঘনের একটি ঘটনা তদন্ত করছে ইসিবি। সোমবার ভোরে একটি নাইটক্লাবে বেন স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসন উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। আমরা বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি। দ্বিতীয় টেস্টের স্কোয়াড যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে। বিষয়টি ক্রিকেটের রেগুলেটরকে জানানো হয়েছে।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ১৭ জুন ওভালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টে এই দুই খেলোয়াড়ের জন্য খেলা প্রায় অসম্ভব। তদন্ত চলাকালীন তাদের স্কোয়াডের বাইরে রাখা হতে পারে। সারেসেন্স রাগবি ক্লাবও নিশ্চিত করেছে যে, তাদের এক একাডেমি খেলোয়াড় এই ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন।
এই ঘটনায় মানসিকভাবে বেশ ধাক্কা খেয়েছেন স্টোকস। তিনি এখন নিজের টেস্ট অধিনায়কত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবনা করছেন। যদি স্টোকসকে বাদ দেওয়া হয় অথবা তিনি নিজে সরে দাঁড়ান, তাহলে ওভাল টেস্টে ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিতে পারেন সহ-অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক।
পুরনো অভ্যাসের কারণে ডুবল ইংলিশ ক্রিকেট!
ইংলিশ ক্রিকেটারদের জন্য মদ্যপান ও নাইটক্লাব বিতর্ক নতুন ঘটনা নয়। ২০১৭ সালে ব্রিস্টলে এক নৈশকালীন মারামারির ঘটনায় ক্যারিয়ারের সুবর্ণ সময় হারিয়েছিলেন স্টোকস। আদালত থেকে খালাস পেলেও ইসিবি তাঁকে জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। গত বছর স্টোকস জানান যে তিনি মদ ছেড়েছেন, কিন্তু লর্ডস টেস্টের পর আবারও সেই পুরনো ফাঁদে পা দিয়েছেন।
অথবা গত অ্যাশেজ সফরে ক্রিকেটারদের বেসামাল আচরণের কারণে মাঝরাতে ‘কারফিউ’ জারি করতে বাধ্য হয়েছিল ইসিবি। সেবার বাউন্সারের সাথে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে হ্যারি ব্রুক এবং নোসার এক ক্যাফেতে মাতাল অবস্থায় ভিডিওবন্দী হয়ে বেন ডাকেট চরম সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
অ্যাশেজের সেই কলঙ্কজনক অধ্যায়ের পর দলের ডিরেক্টর রব কি জোর দিয়ে বলেছিলেন, ইংল্যান্ড দলে কোনো ‘মদ পানের সমস্যা’ নেই, কিন্তু কিছু খেলোয়াড় সুযোগ পেলে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেন। ক্রিকেটারদের লাগাম টানতে নতুন সংস্কৃতি ও কড়া নিয়ম চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ইসিবি।
কোচ ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম দায়িত্ব নেওয়ার পর খেলোয়ারদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘এমন কিছু করো না যাতে খবরের কাগজের প্রথম পাতায় নাম ওঠে। মনে রেখো, মধ্যরাতের পর ভালো কিছু ঘটে না।’
কিন্তু কোচের সেই অমর বাণী যেন কানেই তোলেননি স্টোকস ও অ্যাটকিনসন। লর্ডসের গৌরবময় জয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় ইসিবিকে আবারও লজ্জার সাগরে ডুবিয়ে কাগজের প্রথম পাতার ‘হেডলাইন’ হলেন তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন