প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফরিদপুরের গুমানী নদীতে খাঁচায় মাছ চাষে সফলতা অর্জন করেছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা। এই পদ্ধতিতে কম জায়গায় তুলনামূলকভাবে বেশি মাছ উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকায় চাষিরা এ ক্ষেত্রে আগ্রহী। তবে সরকারি ঋণ, আর্থিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার অভাবে, সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বৃহৎ পরিসরে এ চাষ সম্প্রসারণ সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা গেছে।
সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত গুমানী নদীর নারায়ণপুর পয়েন্টের দুই পাশে সারি সারি ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ করা হচ্ছে। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে প্রায় ৩০০টি খাঁচায় মাছ চাষ করা হচ্ছে। একই নদীর পার্শ্ববর্তী রতনপুর গ্রামেও রয়েছে আরও ১০টি খাঁচা।
চাষিরা জানাচ্ছেন, ভাসমান খাঁচায় পোনা ছাড়ার পর মাছ বাজারজাত করতে প্রায় ৪-৫ মাস সময় লাগে। বাঁশ, জাল এবং ভাসমান ড্রাম ব্যবহার করে এসব খাঁচা তৈরি করা হয়। ২০/১০ ফুট আয়তনের একটি খাঁচা তৈরিতে আনুমানিক ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। বাজারদর এবং উৎপাদন ব্যয় অনুকূলে থাকলে একটি খাঁচা থেকে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হতে পারে।
এখানে মূলত মনোসেক্স তেলাপিয়া চাষ করা হচ্ছে। চাষিদের মতে, অন্য প্রজাতির মাছ চাষের চেষ্টা করা হলেও কাঙ্ক্ষিত বৃদ্ধি না হওয়ায় সেগুলো জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি।
উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং খাঁচায় ভাসমান পদ্ধতিতে মাছ চাষের অন্যতম উদ্যোক্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, 'পুকুরের তুলনায় এখানে প্রায় ১০০ গুণ বেশি ঘনত্বে মাছ চাষ করা যায়। ২০ ফুট বাই ১০ ফুটের একটি খাঁচা থেকে ১০ থেকে ১৫ মণ মাছ উৎপাদন সম্ভব। আমাদের একটি নিরাপত্তা বলয়ের প্রয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা ও অন্যান্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে এ খাতে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।'
তবে নদীর পানি দূষণ এবং পানিপ্রবাহ কমে যাওয়াকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন চাষিরা। তাদের বক্তব্য, নদীতে বাঁধ দেওয়ার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ কমে গেলে খাঁচায় থাকা মাছ মারা যেতে পারে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ডেমরা এলাকায় বিভিন্ন উৎসের বর্জ্য ও দূষিত পানি নদীতে পড়ায় পানি দূষিত হয়ে মাছ মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এতে খাঁচার মাছের পাশাপাশি নদীর প্রাকৃতিক মাছও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা জানান।
চাষিদের অভিযোগ, ২০১১ সাল থেকে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা হলেও মূলত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এলেই মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা খোঁজ নেন। নিয়মিত সহযোগিতা পাওয়া যায় না। ফলে ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের অর্থে এ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে তাদের।
এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুজিত কুমার মুন্সীর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে খুদেবার্তা পাঠানো হলে তিনি বার্তাটি দেখেছেন, তবে কোনো তথ্য বা বক্তব্য দেননি।
সচেতন মহলের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ শর্তে ঋণ, পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং মাছ চাষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে খোলা পানিতে খাঁচায় মাছ চাষ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। এতে নদীভিত্তিক মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন