প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকার নতুন অর্থনৈতিক মডেল নিয়ে কাজ শুরু করেছে, যার লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা।
এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রশাসনিক সংস্কার, শিল্প পুনরুজ্জীবন এবং কৃষি খাতের দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সরকার।
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সেন্টারে 'সংকট মুহূর্তের বাজেট ২০২৬-২৭' শীর্ষক একটি গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চরচা ডটকম এই আলোচনার আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সরকারের দর্শন হল 'সবার জন্য বাংলাদেশ'। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল যাতে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নতুন অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, দেশীয় এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি, ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রশাসনিক সংস্কার প্রয়োজন।
উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনর্গঠন প্যাকেজ নিয়ে কাজ করছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদনশীল খাতের সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি খাতের প্রসঙ্গটি তুলে ধরে তিনি বলেন, ভর্তুকির পাশাপাশি কৃষিকে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের পথে নিতে হবে। এর জন্য পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের ব্যয়ের কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিতুমীর।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এসব খাতে ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি সেবার মান ও প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি সেবার বিস্তারও জরুরি।
গোলটেবিল আলোচনায় এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম মঞ্জুর বলেন, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বেসরকারি খাতের বিকাশের জন্য কর কাঠামোয় সংস্কারের প্রয়োজন।
তিনি বর্তমান ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ করপোরেট কর কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি নীতিগত স্থিতিশীলতা, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন এবং বিমানবন্দরের গুদাম ব্যবস্থার উন্নয়নেরও আহ্বান জানান।
গবেষক ও অধিকারকর্মী মাহা মির্জা কৃষি খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে, কৃষিতে আরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন।
তিনি কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তাগণ বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের চাপ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে আগামী বাজেটকে বাস্তবমুখী ও সংস্কারমুখী হতে হবে।
কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আর্থিক খাতের সুশাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপরও তারা গুরুত্ব দেন।
আলোচনায় আরও অংশ নেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাশরুর রিয়াজ, সাবেক অর্থসচিব মুসলিম চৌধুরী, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, আইসিএমএবি সভাপতি কাউসার আলম এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন চরচার সম্পাদক সোহরাব হাসান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন