প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বানানোর মাধ্যমে ফুটবল ক্যারিয়ারকে পূর্ণতা দিয়েছেন লিওনেল মেসি। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা ও মেক্সিকোতে ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপ সম্ভাব্যভাবে মেসির শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে। টুর্নামেন্ট চলাকালীন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকার বয়স ৩৯ বছর পূর্ণ হবে। মেসি এখনও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন এবং তার সামনে একাধিক ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়ার সুযোগ রয়েছে, যা টুর্নামেন্টটিকে স্মরণীয় করে তুলতে পারে।
প্রথমত, উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করলে সেটি হবে মেসির খেলা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। এই মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের একজন হয়ে যাবেন। তবে এই রেকর্ডটি তাকে ভাগাভাগি করতে হবে তার আর্চ রাইভাল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং মেক্সিকোর কিংবদন্তি গোলরক্ষক গুইলের্মো ওচোয়ার সঙ্গে। তিনজনেরই থাকবে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের কীর্তি। যদিও ওচোয়া ২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপে মাঠে নামেননি।
বর্তমানে পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কিংবদন্তিদের তালিকায় তাদের সঙ্গে আছেন লোথার ম্যাথাউস, জিয়ানলুইজি বুফন, রাফায়েল মার্কুয়েজ, আন্দ্রেস গুয়ারদাদো এবং আন্তোনিও কারবাহাল।
দ্বিতীয়ত, মেসির সামনে রয়েছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুযোগ। এই মুহূর্তে এই রেকর্ডটিতে আধিপত্য করছে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার, যার গোল সংখ্যা ১৬। তার পেছনে অবস্থান করছেন রোনালদো নাজারিও (১৫) এবং গার্ড মুলার (১৪)। মেসি বর্তমানে ১৩ গোল নিয়ে রয়েছেন এবং যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছেন ফ্রান্সের জাস্ট ফন্তেইনের সাথে। মেসি ২০০৬ সালে ১টি, ২০১৪ সালে ৪টি, ২০১৮ সালে ১টি এবং ২০২২ সালে বাকি গোলগুলো করেছিলেন। তবে, এই রেকর্ডের পথে মেসির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী কিলিয়ান এমবাপ্পে, যার গোল সংখ্যা ১২টি এবং বয়স মাত্র ২৭।
তৃতীয়ত, মেসির সামনে আরও একটি সুযোগ রয়েছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতা হওয়ার। বর্তমানে তার অ্যাসিস্টের সংখ্যা ৮টি। এই তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন পেলে, যার অ্যাসিস্ট সংখ্যা ১০টি। তবে, মেসির জন্য এই রেকর্ড ভাঙা অসম্ভব নয়। ফিফার অফিসিয়াল হিসেব অনুযায়ী, বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের মালিকও মেসিই। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের আগে অ্যাসিস্ট হিসেবে না ধরা হওয়ার কারণে পেলের রেকর্ডটিকে মূলত ধরা হয় না। এই রেকর্ডে মেসির একজন সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন স্বদেশি দিয়েগো ম্যারাডোনা।
এছাড়া, মেসি এখনও পর্যন্ত দুটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন; ২০১৪ এবং ২০২২ সালে। যদি তিনি ২০২৬ সালেও ফাইনালে উঠতে পারেন, তাহলে তিনি যৌথভাবে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি ফাইনাল খেলার রেকর্ড গড়বেন। বিশ্বকাপের তিনটি ফাইনাল খেলার রেকর্ডটি একমাত্র ফুটবলার হিসেবে রয়েছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রাইটব্যাক কাফু। এমবাপ্পেরও এই সুযোগ রয়েছে, কারণ তিনি ২০১৮ এবং ২০২২ এর ফাইনাল খেলেছেন।
আরেকটি রেকর্ড ইতোমধ্যেই মেসির দখলে রয়েছে, যা হলো বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড। তিনি এখন পর্যন্ত ২৬টি ম্যাচ খেলেছেন। তার পেছনে রয়েছেন ম্যাথাউস (২৫), ক্লোসা (২৪) এবং পাওলো মালদিনি (২৩)। নতুন ফরম্যাটে একটি দল সর্বোচ্চ আটটি ম্যাচ খেলতে পারবে, ফলে মেসির সামনে তার নিজস্ব রেকর্ডটি আরও অনেক দূর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
একইভাবে, বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি মিনিট মাঠে থাকার রেকর্ডটিও আরও সমৃদ্ধ করতে পারেন। মেসি বর্তমানে বিশ্বকাপে খেলা মোট সময় ২,৩০০ মিনিট। তাই, ২০২৬ বিশ্বকাপ মেসির জন্য শুধুমাত্র শিরোপা রক্ষার মঞ্চ নই, বরং ইতিহাসের পাতায় আরও কয়েকটি অনন্য রেকর্ড যোগ করার সুযোগ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন