প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : জাপানের কিংবদন্তি মাঙ্গা শিল্পী তেৎসুয়া চিবা মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮৭ বছর। তিনি বিখ্যাত বক্সিং সিরিজ ‘আশিতা নো জো’র স্রষ্টা হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।
মঙ্গলবার তার প্রকাশকরা এই দুঃখজনক খবরটি জানিয়েছেন।
তেৎসুয়া চিবার মাঙ্গায় বিভিন্ন খেলার তরুণ ক্রীড়াবিদদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি যুদ্ধ-পরবর্তী জাপানের সাধারণ মানুষের দারিদ্র্য, হতাশা, আনন্দ ও আশাবাদের চিত্র উঠে এসেছে। গলফ, বক্সিং ও জাপানি মার্শাল আর্ট কেন্দো ছিল তার কাজের অন্যতম বিষয়বস্তু।
বার্তা সংস্থা এএফপি টোকিও থেকে এই খবরটি জানিয়েছে।
১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৭০-এর দশক পর্যন্ত প্রকাশিত ‘আশিতা নো জো’ সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো এক সমস্যাগ্রস্ত তরুণ। কিশোর সংশোধনাগারে বক্সিং শেখার পর সে পেশাদার বক্সিংয়ে নাম লেখায় এবং একপর্যায়ে রোমাঞ্চকর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জড়িয়ে পড়ে।
সিরিজটি জাপানের সংস্কৃতিতে বিশেষ প্রভাব ফেলে। গল্পে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর মৃত্যু হলে ভক্তরা তার শেষকৃত্যের আয়োজন করেন।
বয়স্ক ভক্তদের অনেকেই এখনো সিরিজটির সংলাপ অনায়াসে বলতে পারেন। এটি থেকে জনপ্রিয় অ্যানিমে সিরিজ, চলচ্চিত্র, ভিডিও গেম, টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ও মঞ্চনাটকও তৈরি হয়েছে।
সাত দশকের কর্মজীবনে চিবা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকতা করেছেন এবং জাপান কার্টুনিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
শিল্প, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি জাপানের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘অর্ডার অব কালচার’সহ বেশ কয়েকটি সম্মাননা পেয়েছেন।
জাপানের বড় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান কোদাংশা গত ৪৬ বছর ধরে তরুণ মাঙ্গা শিল্পীদের ‘তেৎসুয়া চিবা পুরস্কার’ দিয়ে আসছে।
এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, পেশাদার শিল্পী হওয়ার পথে অসংখ্য নবীন মাঙ্গা শিল্পী চিবার উপদেশ মনে ধারণ করেছেন। তাদের অনেকেই এখনো এ পেশায় সক্রিয়।
গত বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, মাঙ্গা জগতে চিবার অসামান্য অবদান অপূরণীয়।
শান্তির প্রতি নিজের অঙ্গীকার নিয়ে কথা বলতে চিবা প্রায়ই গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চীনে কাটানো শৈশবের স্মৃতিও তিনি তুলে ধরতেন। যুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন