প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেববুন ভয়াবহ দাবানলে বহু মানুষের মৃত্যু ঘটার পর ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানো ব্যক্তিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহাল করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি দেশের ফৌজদারি আইনে সংশোধনী আনার নির্দেশ দিয়েছেন।
রবিবার বিচার মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেন তেববুন। তিনি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশোধিত আইনটির খসড়া প্রস্তুতির জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দাবানলে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম এবং স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে।
অনুসন্ধানী সাংবাদিক নোজহা খেলালেফ দাবানলে নিহতদের নাম সংগ্রহ করছেন। তিনি পরিবারের প্রকাশিত মৃত্যুসংবাদ এবং স্থানীয় বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে একটি তালিকা তৈরি করছেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যম টুয়ালায় প্রকাশিত তার তালিকায় দাবানলে মৃতের সংখ্যা ২০০ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গত কয়েক দিনে আলজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ১০০টির বেশি দাবানল ছড়িয়ে পড়ে, যার বেশির ভাগই এখন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আলজেরিয়ার প্রেস সার্ভিস জানিয়েছে, রবিবারের আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ১৯টি আগুনের ঘটনা ঘটে, এর মধ্যে ১৮টি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এর আগে শনিবার তেববুন বলেছিলেন, দাবানলের পেছনে নাশকতার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তিনি বলেন, আগুনের উৎপত্তি কিভাবে হয়েছে এবং এর পেছনে কারো ইচ্ছাকৃত ভূমিকা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। প্রেসিডেন্ট বলেন, আগুনের ভয়াবহতা ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে।
আলজেরিয়ার দণ্ডবিধিতে কিছু গুরুতর অপরাধের জন্য এখনও মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে ১৯৯৩ সালের পর দেশটিতে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। বর্তমান আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে বনাঞ্চলে আগুন লাগানোর অপরাধে সর্বোচ্চ ৩০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডেরও বিধান রয়েছে। নতুন সংশোধনীতে বনাঞ্চলে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি করা ব্যক্তিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে আলজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে বহু ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন।
দাবানল থেকে নিরাপদ রাখতে হাজারো মানুষকে বিভিন্ন এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনী ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের সদস্যরা কাজ করছেন। তেববুন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর এবং জরুরি সেবা ব্যবস্থাগুলো দ্রুত মেরামতের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। দাবানলে মোট কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এর আর্থিক পরিমাণ কত, তা নির্ধারণের জন্য তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।
উত্তর আফ্রিকায় তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে সাম্প্রতিক দাবানলগুলো ছড়িয়ে পড়েছে। আলজেরিয়া এবং প্রতিবেশী তিউনিশিয়া এ অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। আলজেরিয়ায় গ্রীষ্মকালে বনাঞ্চলে আগুন লাগার ঘটনা নতুন নয়, তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে দাবানলের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন