প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরগুনায় কৃষকরা তীব্র সার সংকটের কারণে সমস্যায় পড়েছেন। আমতলী, তালতলী ও বরগুনা সদরের বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজনের সময় সার না পাওয়ায় তাঁরা বাজার ও বিক্রয়কেন্দ্রে ঘুরছেন। নির্ধারিত সময়ে সার প্রয়োগ করতে না পারায় আমনসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নতুন সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, অযোগ্যদের সুপারিশ এবং স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ কৃষকদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন মিরাজ জানিয়েছেন, ১৯ অক্টোবর চালিতাতলী খেয়াঘাট এলাকায় তিনি দেখেছেন, তালতলীর এক কৃষক সার না পেয়ে বেতাগী উপজেলার চান্দখালী বাজার থেকে সার সংগ্রহ করে ট্রলারে বাড়ি ফিরছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত ইরি-বোরো মৌসুমে সার ও জ্বালানি সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। চলতি আমন মৌসুমেও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কৃষক এবং সামগ্রিক অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়বে।
তালতলীর সোনা কাটার ইউনিয়নের লাউপাড়া গ্রামের কৃষক মোঃ নিজাম উদ্দিন বলেন, "জমিতে সার দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় আছে। সেই সময়ে সার না পেলে পরে কিনে আনলেও কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকে। এক দোকানে না পেয়ে অন্য দোকানে যেতে হয়। দূরের বাজার থেকে সার আনতে গেলে পরিবহন খরচও বাড়ে।"
আমতলী উপজেলার চাওলা ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামের আব্দুল লতিফ মাতুব্বর বলেন, "সার কিনতে বাজারে গিয়ে প্রয়োজনমতো না পেলে চাষাবাদের কাজ পিছিয়ে যায়। সময়মতো সার না পেলে ধানসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ার ভয় থাকে। আমরা চাই, সরকারি নির্ধারিত দামে পর্যাপ্ত সার বিক্রি নিশ্চিত করা হোক।"
বরগুনা সদরের কৃষক আব্দুল কাদের মোল্লা বলেন, "কৃষকের যখন সার প্রয়োজন, তখনই সরবরাহ থাকতে হবে। সংকটের সময় কোথায় কত সার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, ডিলারদের কাছে কত মজুত রয়েছে এবং কী দামে বিক্রি হচ্ছে, এসব তদারকি করা দরকার। কৃষক যেন সার কিনতে গিয়ে হয়রানির শিকার না হন।"
তালতলীতে ডিলার নিয়োগের সুপারিশ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন পরিষদের এক চেয়ারম্যানের ছেলেকে নতুন ডিলারশিপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যদিও তাঁর আগে থেকেই খুচরা সার বিক্রির লাইসেন্স রয়েছে। পর্যাপ্ত গুদামসুবিধা না থাকা এক আবেদনকারীর নাম সুপারিশের তালিকায় রাখার অভিযোগও রয়েছে। গুদামঘরের মালিক স্বপন চন্দ্র শীলের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগটিও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।
আমতলীর আড়পাঙ্গাশিয়া ও হলদিয়া ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের সুপারিশে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। তাঁদের দাবি, আড়পাঙ্গাশিয়ায় সোহাগ মুন্সী এবং হলদিয়ায় মো. ওহাব খানকে সুপারিশের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম বদরুল আলম জানিয়েছেন, ডিলার নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগ যাচাই করা হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সুপারিশ বা ডিলারশিপ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষকদের দাবি, সার সংকটের কারণ অনুসন্ধান করে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে। পাশাপাশি ডিলারদের মজুত, বরাদ্দ ও বিক্রির হিসাব নিয়মিত তদারকি এবং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। তাঁদের মতে, সময়মতো ন্যায্যমূল্যে সার নিশ্চিত করা না গেলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে ফসলের ফলন এবং চাপে পড়বে গ্রামীণ অর্থনীতি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন