প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রস্তুতির নানা সমস্যার মধ্যে শনিবার জাপানে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ২০তম এশিয়ান গেমস। এই বহুমাত্রিক ক্রীড়া আসরে অলিম্পিকের তুলনায় বেশি সংখ্যক অ্যাথলেট অংশগ্রহণ করেছেন এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঐক্যের বার্তা প্রদান করা হয়েছে।
তবে নাগোয়ার পালোমা মিজু স্টেডিয়ামের ৩০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার মধ্যে বিপুলসংখ্যক আসন ফাঁকা ছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি উপভোগ করতে অল্পসংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন, যেখানে মূল মঞ্চটি বিশাল হৃদয়ের আকৃতিতে নির্মিত হয়েছিল।
বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় উদ্বোধনী আয়োজনের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অ্যাথলেট ও কর্মকর্তাদের মার্চ পাস্ট ছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ। উপস্থিত দর্শকরা নিজেদের দেশের অ্যাথলেটদের স্টেডিয়ামে আসতে দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন।
ইংরেজী বর্ণমালার ক্রমানুসারে বাংলাদেশ স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে আফগানিস্তান ও বাহরাইনের পর তৃতীয় স্থানে। বাংলাদেশের শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকী ও কারাতেকা হুমায়রা আক্তার প্রিয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন।
এবারের গেমসে ৪৩টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে বাংলাদেশ ২২টিতে অংশগ্রহণ করছে। প্রায় আড়াইশ জনের কন্টিনজেন্ট, যার মধ্যে অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা রয়েছেন।
জাপানের সম্রাট ও সম্রাজ্ঞী স্টেডিয়ামে আসন গ্রহণ করলে তাদের সম্মানজনক অভ্যর্থনা প্রদান করা হয়। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সভাপতি কার্স্টি কভেন্ট্রি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
নাগোয়া ও আইচি প্রিফেকচারে আয়োজিত এই আসরে সাতটি খেলায় ২০২৮ অলিম্পিকের জন্য জায়গা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশ্বখ্যাত তারকা ও দ্রুত উঠে আসা প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা অংশ নিচ্ছেন।
তবে গেমসের আয়োজনের আগে ধারাবাহিক নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল। ১১ হাজারের বেশি অ্যাথলেট ও ৬ হাজার কর্মকর্তা আয়োজকদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেন। তাদের থাকার ব্যবস্থা করতে গিয়ে আয়োজকদের হিমশিম খেতে হয়।
গত সপ্তাহে রেকর্ড বৃষ্টিতে নাগোয়ার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। পূর্ব জাপানের দিকে এগিয়ে আসা একটি টাইফুন আগামী কয়েক দিনে আরও বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।
অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া (ওসিএ) জানিয়েছে, ৪৫টি দেশ ও অঞ্চল অংশগ্রহণ করছে এবং এই প্রধান ক্রীড়া আসরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠান শুরুর আগে ওসিএ সভাপতি শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল-থানি বলেন, “উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বার্তা হলো, এশিয়ার বিভিন্ন সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সংঘাতের বিরুদ্ধে এশিয়ার ঐক্য দেখানো ও তুলে ধরা।”
যদিও আয়োজকেরা দাবি করেছেন সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে, তবুও স্টেডিয়ামের সারি সারি আসন ফাঁকা ছিল।
স্টেডিয়ামে প্রবেশের সময় স্বাভাবিকভাবেই স্বাগতিক জাপানের অ্যাথলেটদের বিশাল বহরের দিকে সকলের নজর ছিল। দর্শকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিবাদন পেয়েছেন চীনের প্রতিযোগীরা।
২০২৩ সালে কোভিডের কারণে বিলম্বিত সর্বশেষ হাংঝু এশিয়ান গেমসে নিজেদের মাটিতে ২০১টি স্বর্ণসহ মোট ৩৮৩টি পদক জিতেছিল চীন। এবারও পদক তালিকায় শীর্ষে থাকার প্রত্যাশা তাদের।
বাস্কেটবল, ফুটবল ও ক্রিকেটসহ কয়েকটি খেলা ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
১৯৫১ সালে শুরু হওয়া এশিয়ান গেমসে বরাবরের মতোই অ্যাথলেটিকস ও সাঁতারের মতো অলিম্পিকের গুরুত্বপূর্ণ খেলাগুলোর পাশাপাশি সেপাক টাকরো ও কাবাডির মতো আঞ্চলিক জনপ্রিয় খেলাও থাকবে।
থাকছে ই-স্পোর্টস, ব্রেকড্যান্সিং ও বিএমএক্স সাইক্লিং। প্যাডেল ও এমএমএ প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে যুক্ত হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন