প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক হিসাবের অনিয়ম সংক্রান্ত বিষয়ে অনুসন্ধান পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে যুক্তরাজ্যের অডিট নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
হাউস অব কমন্সের বিজনেস সিলেক্ট কমিটিকে পাঠানো এক চিঠিতে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) জানিয়েছে, তারা ৩০ সেপ্টেম্বর ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ইন ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস (আইসিএইডব্লিউ)-এর কাছ থেকে মামলাটির "নিয়ন্ত্রক বিবেচনা" গ্রহণ করেছে।
এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়নি, তবে এফআরসি বিষয়টি নিয়ে একটি প্রাথমিক অনুসন্ধান চালাচ্ছে।
পূর্বে একটি স্বাধীন কমিশন ম্যানচেস্টার সিটিকে ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল ক্লাবের আর্থিক অবস্থাকে ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি বাড়িয়ে দেখানোর বিষয়টি। তবে সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে সিটি।
এফআরসির কাছে বিস্তৃত ক্ষমতা রয়েছে। যদি তারা কোনো অনিয়মের প্রমাণ পায়, তাহলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার তাদের রয়েছে। সাধারণত তালিকাভুক্ত বড় কোম্পানির হিসাবমান তদারকি করলেও ফুটবল ক্লাব নিয়ে কাজ করা তাদের জন্য তুলনামূলকভাবে অস্বাভাবিক।
এফআরসি ম্যানচেস্টার সিটির অডিটর বিডিও-এর কার্যক্রমও খতিয়ে দেখতে পারে, যাতে তাদের অডিটিং প্রক্রিয়া নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে কি না তা যাচাই করা যায়।
শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, যদি তারা পেশাদার হিসাববিদ সংগঠনের সদস্য হন, তাহলে এতিহাদ ক্লাবের পরিচালক বা কর্মীদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা রয়েছে সংস্থাটির।
যুক্তরাজ্যের পঞ্চম বৃহত্তম অ্যাকাউন্টিং প্রতিষ্ঠান বিডিও দাবি করেছে, ফুটবল খাতে তারা বাজারের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান এবং অন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নশিপ ক্লাবকে পরামর্শ দেয়।
স্বাধীন কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্লাবে শেয়ারহোল্ডারদের অর্থায়নের প্রকৃত উৎস গোপন রাখতে ব্যবহৃত ব্যবস্থার বিষয়ে ম্যানচেস্টার সিটি তাদের অডিটরদের কাছে "বিভ্রান্তিকর ধারণা" দিয়েছিল। কমিশনের মতে, অডিটররা ওই ব্যবস্থার ব্যাপারে "অবগত ছিলেন না"।
ম্যানচেস্টার সিটি জানিয়েছে, তারা কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে। ক্লাবটির দাবি, রায়টিতে আইন, নীতি ও বাস্তব তথ্যগত দিক থেকে "গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি" রয়েছে এবং এটি নির্ভরযোগ্য নয়।
বিজনেস সিলেক্ট কমিটির চেয়ারম্যান লিয়াম বায়র্ন এ ধরনের মামলায় এফআরসির ক্ষমতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, "নিয়ন্ত্রকের চিঠি দেখিয়ে দিচ্ছে, ক্লাব থেকে প্রমাণ আদায় এবং তাদের শৃঙ্খলামূলক বিধির বাইরে থাকা পরিচালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে।
এর ফলে কোম্পানি ও পরিচালকদের জবাবদিহির আওতায় আনতে বিদ্যমান ক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।
এই ঘাটতি দূর করার জন্য প্রস্তাবিত সংস্কার কেন বাতিল করা হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব সরকারের। একই সঙ্গে জবাবদিহি জোরদারে এখন কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটিও স্পষ্ট করতে হবে।
এদিকে বিডিও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন