প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গভীর রাতে চারদিকে যখন নিস্তব্ধ, ঠিক তখনই কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ডে পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়। মাদক ব্যবসায়ীরা গাঁজাসহ পিকআপ ভ্যান নিয়ে পালানোর মরিয়া প্রচেষ্টা চালায়, কিন্তু পুলিশের ধাওয়ার কারণে তারা বেশিদিন পালাতে পারে নি। অনেক কিলোমিটার ধাওয়ার পর চারদিকে ঘিরে ফেলা হয় পিকআপ ভ্যানটিকে। কুলিয়ারচর থানা পুলিশের এই সফল অভিযানে উদ্ধার হয় ২৪ কেজি গাঁজা, এবং জব্দ করা হয় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান।
কুলিয়ারচর থানা সূত্রে জানানো হয়েছে যে, গত ৩০ জুন মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কুলিয়ারচর থানার কর্তব্যরত এসআই সুজন বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। এই সময় সন্দেহজনকভাবে চলাচলরত তুলাভর্তি একটি পিকআপ ভ্যানকে থামানোর সংকেত দেয় পুলিশ। কিন্তু সংকেত উপেক্ষা করে চালক দ্রুতগতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
পুলিশও থেমে থাকেনি। সঙ্গে সঙ্গে ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ঢাকা মেট্রো-ন ১২-০৩৬৬ নম্বরের পিকআপ ভ্যানটি বাজরা বাসস্ট্যান্ড মাছ আড়তের ভেতরে ঢুকে পড়ে। মুহূর্তেই চারদিক থেকে পুলিশ ঘিরে ফেলে। এরপর পিকআপ ভ্যানটি তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ২৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং একইসঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপটি জব্দ করা হয়। পুলিশের হাতে আটক হন মো. ডালিম মিয়া (৩৪) নামে একজন ব্যক্তি।
আটককৃত ডালিম মিয়া কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার আলাল মিয়ার ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটককৃত ডালিম মিয়া একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এসব মামলার তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে কাজ চলছে।
উদ্ধার হওয়া গাঁজা ও জব্দকৃত পিকআপ ভ্যান পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ১ জুলাই বুধবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলা নং-১।
কুলিয়ারচর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মাদক পাচার ও কারবারের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিস্তার রোধে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হচ্ছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
কুলিয়ারচরে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে একের পর এক মাদক উদ্ধার এবং কারবারিদের আইনের আওতায় আনছে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ। স্থানীয়রা প্রত্যাশা করছে, পুলিশের এই ধারাবাহিক ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সমাজ আরও নিরাপদ হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন