প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা কর্তৃক আটক হয়েছে অনলাইন জুয়া চক্রের ছয় সদস্য। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এ বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন, এই চক্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ অনলাইন জুয়ায় জড়িত ছিল। অভিযানটি গাজীপুরের একটি রিসোর্ট থেকে শুরু হয়, যেখানে প্রথমে তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা থেকে আরও তিনজন আটক করা হয়। পুলিশ অভিযানের সময় ৬০৬টি বিকাশ-নগদ অ্যাকাউন্টযুক্ত ৬৭টি সিম কার্ড, একটি ল্যাপটপ এবং একটি মাইক্রোবাস জব্দ করেছে।
আটক হওয়া ছয় জনের মধ্যে রয়েছেন: মো. আরিফুল ইসলাম রিফাত (২৩), মো. আরমান হোসেন জিহাদ (২৩), মাসুদ হোসেন (২২), আব্দুল রাব্বী, কৌশিক আহমেদ শুভ (২৩) এবং মশিউর রহমান তারেক (২০)।
ডিবি সূত্রে জানানো হয়েছে, সাইবার মনিটরিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিবি একাধিক অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ চিনতে সক্ষম হয়েছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এসব জুয়ার প্ল্যাটফর্মে লেনদেনের জন্য মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসের এজেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের পর একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গাজীপুরের টঙ্গীর রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে প্রথম তিনজনকে আটক করা হয়। পরে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় কুমিল্লা সদরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে আরও তিনজন ধরা হয়।
আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট এবং অ্যাপ পরিচালনার জন্য অনেক পেমেন্ট কোম্পানি কাজ করছে। উল্লেখযোগ্য পেমেন্ট কোম্পানি গুলোর মধ্যে রয়েছে Pay Kashma, Gopay, Lucky pay, LQ pay, XE pay, Cool pay ইত্যাদি। দেশের কার্যরত বেশিরভাগ জুয়ার সাইটের পেমেন্ট কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ চীনের নাগরিকদের হাতে রয়েছে।
বাংলাদেশে এই পেমেন্ট কোম্পানিগুলি কাজ করার জন্য স্থানীয় লেনদেনের মাধ্যম প্রয়োজন হয়, যে কারণে তারা মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট সংগ্রহ করে। ব্যাংকের তুলনায় এগুলো সহজলভ্য এবং দুর্বল মনিটরিংয়ের কারণে অধিকাংশ সময় এই পেমেন্ট কোম্পানিগুলি এমএফএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে।
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রটি প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকা লেনদেন করত এবং সেই টাকা বিভিন্ন উপায়ে বিদেশে পাচার করা হতো। তাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ কোটি টাকা অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে লেনদেন হয়ে থাকে। আটকের বিষয়ে আরিফুল ইসলাম রিফাত বাংলাদেশ অংশের মূলহোতা হিসেবে ধরা পড়েছে এবং তার অধীনে বাকিরা Gopay নামক কোম্পানির হয়ে কাজ করতো। আটক আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং এই সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও সদস্যদের ধরার জন্য পুলিশ ক্রিয়াশীল রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন