প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর, ভারত সরকার হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ভারতীয় নাবিক নিয়োগ না দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে। এই নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রযোজ্য থাকবে। জাহাজের মালিক, পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং নাবিক সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোকে এই নির্দেশ অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
ভারতের নৌপরিবহন মহাপরিদপ্তর (ডিজি শিপিং) বুধবার গভীর রাতে এক নির্দেশ জারি করে ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজে নতুন করে ভারতীয় নাবিক নিয়োগ করা যাবে না। এই সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ও সাম্প্রতিক জাহাজ হামলার কারণে। গত তিন দিনে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় জাহাজে হামলার ঘটনায় দুই ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। নৌপরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানায়, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ এবং সেখানে কর্মরত নাবিকদের ঝুঁকি সম্প্রতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ডিজি শিপিংয়ের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং সেখানে চলাচলকারী জাহাজে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন। এছাড়াও, নির্দেশে জাহাজের মালিক ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। জাহাজের অধিনায়কদের বিশেষ নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি এবং আশপাশের সমুদ্র অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল সংস্থার জারি করা সতর্কবার্তা ও নিরাপত্তা নির্দেশনাগুলোও নিয়মিত অনুসরণ করার জন্য বলা হয়েছে।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নাবিক সরবরাহকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নাবিক সরবরাহের ক্ষেত্রে ভারতের বিশ্বের তৃতীয় স্থান। বর্তমানে ভারতীয় নাবিকরা বিশ্বের বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজে ৩ লাখের বেশি কাজ করছেন।
এদিকে, মঙ্গলবার জাহাজে হামলার ঘটনায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার পর ভারত ইরানের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। এই ঘটনায় দিল্লিতে ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক নৌপথ হিসেবে পরিচিত। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়ার সাথে সাথে এই পথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বেড়ে গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন