প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইউরোপের শীর্ষ মানবাধিকার পুরস্কার ‘সাখারভ পুরস্কার’ অর্জন করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আদালতটির অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা প্রদান করেছে। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচার করার জন্য আদালতটির স্বাধীনভাবে কাজ করার গুরুত্বও সংস্থাটি তুলে ধরেছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার আইসিসিকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। ট্রাম্প প্রশাসন নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আদালতটির কার্যক্রম অকার্যকর করার হুমকি দেওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ পর এই স্বীকৃতি এসেছে। চলতি মাসে এটি আইসিসির জন্য দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এর আগে শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য আদালতের সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেছিলেন।
পুরস্কার ঘোষণার সময় ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রবার্তা মেটসোলা উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইসিসির গুরুত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবেই এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।
আইসিসি এই পুরস্কারের জন্য ইউরোপীয় পার্লামেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। আদালতটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এমন একটি সময়ে এই সম্মাননা এসেছে, যখন প্রতিষ্ঠানটি ও এর কর্মকর্তারা নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।
আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাখারভ পুরস্কার বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এই স্বীকৃতি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় কাজ করা ব্যক্তিদের ভূমিকা আবারও সামনে এনেছে।
নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আইসিসির সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ দীর্ঘদিনের। ২০২৪ সালে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালতটি। এরপর থেকে আইসিসির ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ধাপে ধাপে আইসিসিকে অকার্যকর করার অঙ্গীকার করেছে। সম্প্রতি আদালতটির দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে নতুন নিষেধাজ্ঞাও ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন।
আইসিসিতে ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার অভিযোগের বিচার করা হয়। তবে আদালতটির কার্যক্রম সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে বিচারক ও কৌঁসুলিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা।
নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, আইসিসির সঙ্গে কাজ করা নিষিদ্ধ করা হবে। আদালতটির সম্পদ পাওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করার সক্ষমতা পঙ্গু করে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং মার্কিন জনগণ ‘ভুয়া আইসিসির’ এখতিয়ারের অধীন নয়।
এএম
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন