প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সাব-রেজিস্ট্রার ধীমান সেন সপ্তাহের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে মাত্র দুই দিন অফিসে উপস্থিত থাকেন।
অফিসের বাকি তিন দিন তিনি উপস্থিত থাকেন না। এর ফলে দলিল নিবন্ধনসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য ক্রেতা-বিক্রেতা ও জমি-সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
দলিল লেখক এবং সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, সাব-রেজিস্ট্রারের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে দলিল সম্পাদনা ও নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ অফিসে কখন সাব-রেজিস্ট্রার থাকবেন এবং কখন দলিল সম্পাদন হবে—এ বিষয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ছেন।
এতে তাদের সময় ও অর্থ দুটিই অপচয় হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সরেজমিনে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সাব-রেজিস্ট্রারের অফিসের পাশের কক্ষে মোহরার (নথি রক্ষক) জল্পনা রানী দাস ও রুনু প্রভা দাস বসে আছেন। তারা জানান, সাব-রেজিস্ট্রার সপ্তাহে দুই দিন অফিসে আসেন। প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার তিনি কার্যালয়ে উপস্থিত থাকেন।
অফিসে উপস্থিত না থাকার বাকি সময় তিনি কখনো লক্ষ্মীপুরে, আবার কখনো চট্টগ্রামে থাকেন।
অফিসের বাইরে অপেক্ষমাণ সেবাপ্রত্যাশী ইলিয়াস ও আতর জামান বলেন, জমি কেনাবেচার দলিল সম্পাদনের জন্য তারা অনেক আগেই প্রস্তুতি নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এসেছেন। কিন্তু কর্মকর্তা অফিসে না থাকায় পুরো প্রক্রিয়া আটকে যাচ্ছে। বিশেষ করে নির্ধারিত তারিখে দলিল সম্পাদন করতে না পারায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে বিরোধ এবং আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তারা জানান, গত তিন দিন ধরে অফিসে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে।
আরেক সেবাপ্রার্থী ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘এভাবে আর কতদিন আসব? অফিসে এলে শুনি সাব-রেজিস্ট্রার নেই, দলিল নিবন্ধন হবে না। মানুষের এই ভোগান্তি দেখার কেউ নেই?’
সেবাপ্রত্যাশী এবং কয়েকজন দলিল লেখক জানান, সাব-রেজিস্ট্রারের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে কার্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে সরকারি সেবা নিতে আসা মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে দলিল নিবন্ধন-সংক্রান্ত কাজেও জট তৈরি হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন দলিল লেখক অভিযোগ করেন, সাব-রেজিস্ট্রার তাঁর ইচ্ছামতো অফিস করেন। তিনি মন চাইলে আসেন, না চাইলে আসেন না। তাদের দাবি, সপ্তাহে যে দুই দিন তিনি অফিস করেন, ওই দুই দিনে প্রায় দুই শতাধিক দলিল নিবন্ধন করা হয়। প্রতিটি দলিলের জন্য তিনি দুই হাজার টাকা করে নেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। কোনো দলিলে জটিলতা থাকলে টাকার অঙ্ক আরো বেড়ে যায় বলে দাবি করেন তারা।
তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সাব-রেজিস্ট্রার ধীমান সেন অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে একাধিকবার তাঁর মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলে রাত ৯টা ২০ মিনিটে তিনি ফোনে কথা বলেন। এ সময় তিনি সপ্তাহে দুই দিন অফিস করার কথা স্বীকার করে বলেন, বাকি তিন দিন তিনি অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকেন। তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন সপ্তাহে দুই দিন অফিস করার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনা সত্য। আমার জানামতে, তিনি সপ্তাহে দুই দিন অফিস করেন। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব।’
লক্ষ্মীপুর জেলা সাব-রেজিস্ট্রার নীরোদ বরণ বিশ্বাস বলেন, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত অফিস করা বাধ্যতামূলক। তিনি কেন অনিয়মিত অফিস করছেন, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
সেবাপ্রত্যাশীদের দাবি, সরকারি কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে একটি উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন