প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নওগাঁর মহাদেবপুরে মেসার্স সোহাগ আয়রন স্টোরের ভাঙারি মাল বিক্রির ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনার ২৪ ঘণ্টার কম সময়ে রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এক ঝটিকা অভিযানে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৩ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ছিনতাই হওয়া মোট টাকার একটি বড় অংশসহ ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ১. মুন্না (২৪), পিতা: সিরাজুল ইসলাম, গ্রাম: রামচন্দ্রপুর, থানা: মহাদেবপুর, জেলা: নওগাঁ; ২. রবিন (২৫), পিতা: মৃত ইয়াদ আলী, গ্রাম: ঈশ্বর লক্ষ্মীপুর, থানা: মহাদেবপুর, জেলা: নওগাঁ এবং ৩. ভুক্তভোগী সাজানো পিকআপ চালক সোহেল রানা (২৫), পিতা: আমজাদ হোসেন, গ্রাম: ডিম জাওন, থানা: মহাদেবপুর, জেলা: নওগাঁ।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, মেসার্স সোহাগ আয়রন স্টোরের মালিক আব্দুল আলিম (৩৪) সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে মহাদেবপুর সরকারি গোডাউনের পাশে থেকে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পিকআপে করে বগুড়ায় লোহালক্কড় ও ভাঙারি মাল বিক্রি করে নগদ ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা নিয়ে মহাদেবপুরে ফিরছিলেন।
গত ৩ নভেম্বর আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে পিকআপটি মহাদেবপুর উত্তর গ্রাম চৌদ্দ মাইল ব্রিজের পশ্চিম পাশের ফাঁকা রাস্তায় পৌঁছালে আকস্মিকভাবে বিকল হয়ে যায়। এই সুযোগে মোটরসাইকেলযোগে আসা অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা পিকআপের ড্রাইভার সোহেল রানাকে হালকা এবং ম্যানেজার মজনু মিয়াকে ব্যাপক মারধর করে নগদ ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পরপরই তাৎক্ষণিক কঠোর পদক্ষেপ নেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। তার নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জনাব জয় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক হাসিবের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম এবং মহাদেবপুর থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযানে নামে।
তথ্যপ্রযুক্তি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও ডাটা বিশ্লেষণ করে ডিবি পুলিশ দ্রুত আসামিদের শনাক্ত করে। এরপর সারারাতব্যাপী চলা সাঁড়াশি অভিযানে প্রথমে রামচন্দ্রপুরের নিজ বাড়ি থেকে মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ঘর থেকে ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে মুন্নার দেওয়া তথ্যে মহাদেবপুরের একটি ভাড়া বাসা থেকে রবিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিনের হেফাজত থেকে আরও ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
অভিযানের শেষ পর্যায়ে এই দুই আসামির দেওয়া তথ্য ও অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদে থলের বেড়াল বেরিয়ে আসে। জানা যায়, পুরো ছিনতাই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন পিকআপের ড্রাইভার সোহেল রানা ও মুন্না এবং প্রধান ভূমিকায় ছিলেন রবিন। গত এক সপ্তাহ ধরে তারা এই ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেছিল। পুলিশ নাটকীয়ভাবে নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে ড্রাইভার সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নওগাঁ জেলা পুলিশ সড়কে যেকোনো ধরনের অপরাধ, বিশেষ করে ছিনতাই এবং ডাকাতির মতো অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। আইন অনুযায়ী কঠোর হস্তে এসব অপরাধ দমন করা হবে।”
ঘটনার দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও টাকা উদ্ধারে জেলা পুলিশের এই পেশাদারিত্বকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন