প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা ড. আ.ফ.ম. খালিদ হোসেন বলেছেন, "আমি ঘুমাচ্ছিলাম।" বৃহস্পতিবার বন্ধুবান্ধবরা ফোন করে জানায়, "আপনার নাম উপদেষ্টা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় আসেন।" তিনি বলেন, "আমি কীভাবে ঢাকায় যাব? আমি তো হালিশহরে জুমার নামাজ পড়াই।" পরে বন্ধুরা জানায়, "হঠাৎ শপথের ডাক এলে চট্টগ্রামে থাকলে শপথ নিতে পারবেন না।"
সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, "আল্লাহ যাকে চান ক্ষমতা দেন, আবার ইচ্ছা করলে ক্ষমতা কেড়েও নেন। ক্ষমতা কোনো স্থায়ী বিষয় নয়। সুযোগ পেলে আমরাও জনগণের খেদমত করব।"
গতকাল চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গামাটিয়া এলাকার আল-মদিনা মহিলা মাদ্রাসার বার্ষিক ইসলামী মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নিজের উপদেষ্টা হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. খালিদ বলেন, শুক্রবার সকালে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। গুলশানে যানজটে আটকে পড়লে বন্ধুর পরামর্শে স্কুটারে করে বঙ্গভবনের দিকে রওনা দেন। পথে বিভিন্নজনের ফোনে জানতে পারেন, টেলিভিশনে তাঁর নাম উপদেষ্টা হিসেবে প্রচার হচ্ছে। পরে রাত সাতটার দিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ফোন পান। তাঁকে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন এবং রাত সাড়ে আটটায় বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, "বঙ্গভবনে ঢুকে দেখি, ইসলামি দলগুলোর বড় বড় নেতারা উপস্থিত। সবার নাম লেখা আসনে বসে আমরা শপথ নিলাম। শপথের পর সরকারি গাড়ি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। আমার বাসা চট্টগ্রামে হওয়ায় ঢাকায় একটি রেস্ট হাউসে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।"
মুসলমানদের ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, "যতদিন মুসলমানরা এক ছিল, ততদিন পৃথিবী মুসলমানদের ভয় করত। কিন্তু মুসলমানরা যখন বিভক্ত হয়ে পড়েছে, ভাইয়ের বুকে ভাই ছুরি মারছে, তখনই মুসলমানরা দুর্বল হয়ে গেছে।"
তিনি আরও বলেন, "বিশ্বে মুসলমানের সংখ্যা প্রায় ২০০ কোটি এবং মুসলিম দেশ রয়েছে ৫৭টি। এত বিপুল জনসংখ্যা ও দেশ থাকা সত্ত্বেও মুসলমানদের মধ্যে ঐক্যের অভাব রয়েছে। রাসুলে করিম (সা.)-এর তরিকা ও আল্লাহর ওলি-কেরামের আদর্শ অনুসরণ করে নিজেদের সংশোধন করতে হবে।"
ধর্ম উপদেষ্টা থাকাকালীন নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ড. খালিদ বলেন, "আমি উপদেষ্টা থাকাকালীন এক টাকাও ঘুষ খাইনি। হাজীদের টাকা ফেরত দিয়েছি। সাড়ে আট কোটি টাকা ফেরত দিয়েছি। আরও কিছু টাকা রেখে এসেছিলাম, এই সরকার চার কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে। চাইলে এসব টাকা আত্মসাৎ করলে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানত না। কিন্তু টাকা-পয়সা বড় বিষয় নয়, ইজ্জত-সম্মানই আসল।"
হজ ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, "বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ৮০ হাজার মানুষ হজে যান। তাঁদের মধ্যে ছয় হাজার সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং বাকিরা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যান।" হজের কোটা ও চুক্তি নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা শাইখ কাজী ইকবালের সভাপতিত্বে ও শিক্ষক ও সাংবাদিক এম জুনায়েদের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুরের সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা মুফতি মাহমুদুল্লাহ। এছাড়াও বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরামগন কোরআন - সুন্নাহর আলোকে বয়ান করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন