প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা পুনর্ব্যক্ত করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জনস্বার্থ সুরক্ষায় ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি জোরালো তাগিদ দিয়েছেন। দেশের জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি চট্টগ্রাম জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাটহাজারী থেকে নাজিরহাট সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত রোড ডিভাইডার স্থাপন এবং সড়ক সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির ১৫৭তম সভায় প্রতিমন্ত্রী এই অভিমত ব্যক্ত করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় হাটহাজারী-নাজিরহাট সড়কের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, "হাটহাজারী থেকে নাজিরহাট পর্যন্ত অত্যন্ত ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ডিভাইডার না থাকায় সম্প্রতি দুর্ঘটনায় ২৭ জনের করুণ ও অকাল মৃত্যু ঘটেছে, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক।" তিনি আরও বলেন, "চট্টগ্রামবাসীর এই দুঃখ-কষ্ট আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। এ ধরনের অশুভ ও মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমরা কোনোভাবেই ঘটতে দিতে পারি না।" তাই জরুরিভিত্তিতে হাটহাজারী-নাজিরহাট রোডে রোড ডিভাইডার স্থাপন এবং সড়কটি সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারি জমি বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থ সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল দৃঢ়তার সাথে বলেন, "বিগত আমলের অস্বচ্ছতা, অনিয়ম ও চাটুকারিতার নজির আমরা এ দেশে আর হতে দেব না।" তিনি জানান, ভূমি অধিগ্রহণের প্রতিটি ধাপে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে এবং জনগণ যেন কোনো প্রকার ভোগান্তি বা অসন্তোষের শিকার না হয়, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হবে।
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট করে কোনো উন্নয়ন কাজ হতে পারে না। পরিবেশের ভারসাম্য ও কৃষি জমি সুরক্ষার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার কড়া নির্দেশনা দেন তিনি।
উক্ত সভায় কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির পূর্বানুমোদনের জন্য প্রাপ্ত চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত প্রস্তাবসমূহ অনুমোদন করা হয়।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন 'চট্টগ্রাম শহরের পানিবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন' প্রকল্পের আওতায় পাঁচলাইশ ও পশ্চিম ষোলশহর মৌজায় ১.৮৪০৬৪ একর এবং চন্দনপুরা, ইমামগঞ্জ, পাথরঘাটা, বাকলিয়া ও পূর্ব ষোলশহর মৌজায় ২.২২৮৯৮৮ একর জমি জনস্বার্থে অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগাধীন চাতরী (চৌমুহনী)-সিইউএফএল-কর্ণফুলী ড্রাইডক (মেরিন একাডেমি)-ফকিরনীহাট (এন ১২১) জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় কর্ণফুলী থানাধীন জুলধা (১.৩৯০৩ একর), শিকলবাহা (৬.৯৭৩১ একর), শাহমীরপুর (১০.৭৫৫৯ একর) এবং আনোয়ারা থানাধীন বাদলপুরা মৌজায় (২.৫৮৯০ একর) জমি অধিগ্রহণ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় আঞ্চলিক সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় মিরসরাই ও ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় সর্বমোট ৫৭.৯৩৮০ একর জমির অধিগ্রহণ প্রস্তাব মঞ্জুর করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন