প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের দুর্গম চরাঞ্চল লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের নটাখোলা এলাকায় অবস্থিত ভাঙাচোরা কাঠের সেতুটি প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষের জন্য একমাত্র ভরসা হিসেবে কাজ করছে। সেতুটির দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থার কারণে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, জনপ্রতিনিধিরা মেরামতের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। এই ভাঙা সেতুর উপর দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন ইউনিয়নের শত শত মানুষ। চলাচল করছে চলাঞ্চলের একমাত্র বাহন হিসেবে শত শত মোটরসাইকেল চালকেরাও।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত শেখ আলমাসের উদ্যোগে এই কাঠের সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেতুটি সিমেন্টের খুঁটির ওপর কাঠ দিয়ে নির্মিত হয়। নির্মাণের দুই বছর পর থেকেই সেতুটির বিভিন্ন অংশ ভাঙতে শুরু করে। বর্তমানে দীর্ঘদিনের ব্যবহারে সেতুটির রেলিংসহ নিচের পাটাতন অনেক স্থানে ভেঙে গেছে। নটাখোলা থেকে লেছড়াগঞ্জ, সুতালড়ী ও আজিমনগর তিনটি ইউনিয়নের হাজার হাজার জনগণ এই সেতু দিয়ে চলাচল করে। কবিরপুর, মুনছুরাবাদ, আটত্রিশদাগ, চর ইসলামপুর (ভগবানচর), কাজিকান্দা, এনায়েত পুর, নারান্দিয়া, বসনপুর, বালিয়াচক, গঙ্গাধরদী, পাটগ্রাম, হালুয়াঘাটা, ন'টাখোলাসহ ১৫টি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের জন্য এই সেতুটি অপরিহার্য।
এছাড়াও, ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণ এ কাঠের সেতু ব্যবহার করে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে। সেতুটির মেরামত না হওয়ার কারণে এ অঞ্চলের কৃষকেরা কৃষি পণ্য নিয়ে বিভিন্ন হাটবাজারে যেতে পারছেন না। শুকনো মৌসুমে সেতুর নিচ দিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে মালামাল আনানেয়া করতে পারলেও বছরের প্রায় ছয় থেকে সাত মাস খালে পানি থাকায় নিচ দিয়ে কোনো প্রকার যানবাহন চলাচল করতে পারে না।
নটাখোলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুক্তা আক্তার জানান, চরাঞ্চলের জন্য এই রাস্তা অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। এই রাস্তা দিয়েই বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। কিন্তু কাঠের সেতুটির বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। দুই পাশের রেলিং এবং অনেক স্থানে নেই। সেতুর পাশে উঠার জায়গায় অনেকটা ফাঁকা। সেখানকার কাঠ ভেঙে গেছে। ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেলসহ মানুষজন পায়ে হেঁটে চলাচল করছে। সেতুটির পুনঃসংস্করণ করা খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে। এখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ হলে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য সবচেয়ে উপকার হবে। এই সেতুর জন্য মানুষের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই।
নটাখোলা আফরোজা উচ্চ বিদ্যালয়ের সরকারি শিক্ষক মো. হান্নান মিয়া জানান, এই সেতুটি প্রায় ১৫ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল। নির্মাণের পর দুই বছর অতিবাহিত না হতেই ভাঙন দেখা দেয়। এরপর আর সংস্কার করা হয়নি। সিমেন্টের পিলারের উপরে নির্মিত এই কাঠের সেতুটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর ফলে চলাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। তাদের দাবি, এখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করে চরাঞ্চলের জনগণের যাতায়াতের সুব্যবস্থা করা হোক।
ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক আনিস জানান, এই রাস্তাটি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন চলাঞ্চলের প্রায় শত শত মোটরসাইকেল এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। বর্তমান সেতুটির যে অবস্থা, মোটরসাইকেল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাচল করাও খুব কষ্টকর। মোটরসাইকেল নিয়ে উঠলে তাদের আত্মায় পানি থাকে না। তাদের দাবি, এখানে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণ করে সমস্যার সমাধানের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ মোতালেব হোসেন জানান, প্রায় দুই বছর আগে এখানে ব্রিজ নির্মাণের জন্য সয়েল টেস্ট করা হয়েছিল। এরপর থেকে আর কোনো খোঁজ খবর পাওয়া যায়নি। এই সেতুটি প্রতিবছরই মেরামত করতে হয়। এখানে একটি ব্রিজ অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে তাদের দাবি, এখানে জরুরি ভিত্তিতে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা করা হলে অঞ্চলের জনগণের অনেক উপকার হবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাহীনুজ্জামান ইনকিলাবকে জানিয়েছেন, "গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে এখানে ব্রিজের বিষয়ে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত স্যারের ডিও লেটার সহ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা দেওয়া আছে। প্রস্তাবনা প্রকল্পটি অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন