প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়ে স্থায়ী ঠিকানা না থাকার কারণে নিয়োগপত্র না পাওয়া মিশন আচার্য অবশেষে নিয়োগপত্র পাচ্ছেন।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তার নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খাঁন জানিয়েছেন। বর্তমানে মিশন আচার্য নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
এর আগে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫’-এ চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হলেও নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার প্রার্থী মিশন আচার্য। তিনি গণমাধ্যমে অভিযোগ করেন, স্থায়ী বসতভিটা না থাকার কারণে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আরটিভি অনলাইনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্টদের নজরে আসে।
মো. রাশেদ খাঁন তার ফেসবুক পোস্টে জানান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে দুই দিনের সফর শেষে মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শিক্ষামন্ত্রীকে দেওয়া রাশেদ খাঁনের একটি চিঠিতে মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও স্থায়ী বসতভিটা না থাকার কারণে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চাকরিপ্রার্থী মিশন আচার্য নিয়োগপত্র পাননি। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিশন আচার্য ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায় জন্মগ্রহণ করে সেখানেই বসবাস করছেন। বর্তমানে তিনি ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় রয়েছেন।
রাশেদ খাঁন চিঠিতে উল্লেখ করেন, মিশন আচার্য ছোটবেলা থেকেই পিতৃহীন এবং তার মা তাকে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়েছেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন।
মিশন আচার্য পূর্বে জানিয়েছিলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন এবং উপজেলা পর্যায়ে ১৭তম স্থান অর্জন করেন। মোট ১৮২ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হলেও ১৮০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। বাকি দুজনের একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং অন্যজন তিনি নিজেই।
মিশনের দাবি, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের দপ্তরে খোঁজ নিয়ে তাকে জানানো হয়—তার নামে কোনো স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া যায়নি—এ কারণে তাকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, মিশনের কোনো স্থায়ী বসতভিটা নেই। তার বাবা বহু বছর আগে পরিবার ছেড়ে চলে যাওয়ায় বাবার ঠিকানা থেকেও তিনি বঞ্চিত হন। এরপর থেকে তিনি মায়ের সঙ্গে ঝিনাইদহের কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। ওই এলাকায় তার জন্ম এবং জন্মের পর থেকে সেখানেই বসবাস করছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন