প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একটি পাকা কবর, যা ইট-পাথরে মোড়ানো, চারপাশে রয়েছে পরিপাটি পরিবেশ, পিলার, ছাদ এবং ছোট ছোট মিনার। প্রথমবার দেখলে এটি সাধারণ একটি ঘর বলে মনে হতে পারে, কিন্তু এটি আসলে প্রস্তুত রাখা একটি সমাধি। গত পাঁচ বছর ধরে নিজ হাতে তৈরি করা এই কবরের পাশে বসে জীবনের শেষ দিনগুলো গুনছেন এক বৃদ্ধ।
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার স্বরূপপুর ইউনিয়নের কুশাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রহিম নামের বৃদ্ধ মনোবেদনা ও অবহেলার শঙ্কা থেকে নিজের কবর নিজেই তৈরি করেছেন। প্রতিদিন নিয়মিতভাবে তিনি নিজের তৈরি কবরের যত্ন নেন এবং ধুলোবালি জমলে নিজ হাতে তা পরিষ্কার করেন। শুধু নিজের জন্যই নয়, মৃত্যুর পর স্ত্রী যেন পাশে ঠাঁই পান, সে জন্য স্ত্রীর জন্যও পাশাপাশি আরেকটি কবর প্রস্তুত করে রেখেছেন। তাঁর স্বজনদের কাছে আকুতি—মৃত্যুর পর যেন দুজনকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আব্দুর রহিমের তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাদের নাম হলো আব্দুর রশিদ, খাজা আহাম্মেদ, আব্দুর রহমান ও শিখা খাতুন। তবে সন্তান থাকা সত্ত্বেও মৃত্যুর পর তারা ঠিকঠাক দাফন-কাফন করবেন কি না—এমন শঙ্কা থেকেই মূলত নিজের কবরের ব্যবস্থা নিজে করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এমনকি মৃত্যুর পর যেন কারো ওপর আর্থিক বা সামাজিক বোঝা হতে না হয়, সে জন্য জীবিত অবস্থাতেই নিজের কুলখানি, চল্লিশা ও দোয়া মাহফিলের মতো ধর্মীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে রেখেছেন।
জীবিত মানুষের এমন ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ড ও অগ্রিম প্রস্তুতি দেখতে প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন আব্দুর রহিমের বাড়িতে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ বিষয়টিকে কৌতূহল ও বিস্ময়ের চোখে দেখছেন, তবে কেউ কেউ বলছেন, জীবনের চরম সত্যকে এত কাছ থেকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা সত্যিই বিরল।
এই ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরূপপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, ‘জীবিত অবস্থায় নিজের কবর খুঁড়ে রাখা কিংবা চল্লিশা করার বিষয়টির কথা শুনেছি। ঘটনাটি সত্যিই অবাক করার মতো। সন্তানরা থাকতেও কোনো বাবা-মা যদি এমন শঙ্কা থেকে নিজের কবরের ব্যবস্থা নিজে করেন, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি বিষয়টির খোঁজখবর নিচ্ছি এবং ওই বৃদ্ধের কোনো সহায়তার প্রয়োজন আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
পৃথিবীর মায়াজাল ছিন্ন করে একদিন সবাইকে চলে যেতে হবে পরপারে। তবে মহেশপুরের আব্দুর রহিমের এই প্রস্তুতি কি সন্তানের প্রতি আক্ষেপ, নাকি মৃত্যুর অবধারিত সত্যকে অতি নিকটে মেনে নেওয়ার এক অদ্ভুত মানসিকতা, তা নিয়ে পুরো এলাকায় আলোচনা ও কৌতূহল এখন তুঙ্গে। এ ব্যাপারে মহেশপুর থানার ওসি আজাদ রহমান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন