প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় আয়োজকরা বাউল গানের আসর বন্ধ করে দিয়েছেন, কারণ সেখানে নারী শিল্পীদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া-রাধানগর গ্রামে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। অনুষ্ঠানে নীলা ও তানিশা নামের দুই নারী শিল্পী গান গাইবেন বলে জানা যায়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শওকত আলী, যিনি যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন, অনুষ্ঠানটির পৃষ্ঠপোষকতা করেন। কয়েক দিন ধরে এই আয়োজনের প্রচার চলছিল এলাকায়।
তবে বুধবার, নারী শিল্পীদের গান পরিবেশন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে দিরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন স্থানীয় বাসিন্দা আতাহার আলী রাহাত ও কামরুল হাসান মিটু।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হাতিয়া গ্রামটি দীর্ঘকাল ধরে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ইসলামী ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। গ্রামে একটি আলিম মাদরাসা, একজন আল্লাহর ওলির মাজার এবং অনেক আলেম-ওলামার বসবাস রয়েছে। আয়োজকদের প্রচার অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে নারী শিল্পীদের গান পরিবেশনের ব্যবস্থা থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারীরা ধর্মীয় ঐতিহ্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন, যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা, সংঘাত ও সহিংসতা এড়ানো যায়।
আয়োজক শওকত আলী বলেন, ‘বাউল গান নিয়ে আপত্তি নয়, নারী শিল্পীদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন আবেদনকারীরা। আমরা আয়োজন বন্ধ করে দিয়েছি।’
অভিযোগকারী কামরুল হাসান মিটু বলেন, ‘আমাদের গ্রামটি ইসলামি ঐতিহ্যের। আমরা গ্রামে ইসলামি ঐতিহ্য অনুসারে গান-বাজনা হলে মুসলিম জনতা ক্ষুব্ধ হতে পারে। গ্রামের পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। তাই আমরা গান-বাজনা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছি।’
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নারী শিল্পীদের উপস্থিতি না চেয়ে দুজন আবেদন করেছেন। আয়োজক অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন