প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অপরাধবিষয়ক জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে কোটি দর্শকের প্রশংসা অর্জন করা মিসরের তারকা উপস্থাপিকা সারা খলিফা এখন অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির মঞ্চে যেতে চলেছেন। মাদক চোরাচালান, অবৈধ অস্ত্র এবং একটি আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র পরিচালনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৯ বছর বয়সী এই উপস্থাপিকাসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে মিসরের একটি আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে।
মিসরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘আল-আহরাম’-এর তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা একটি বিশাল সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্র গঠন করেছিল। তারা বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক উপাদান আমদানি করে দেশে কৃত্রিম মাদক তৈরি এবং তা বিক্রির উদ্দেশ্যে সরবরাহ করত।
বিচার চলাকালে আদালত জানতে পারে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই চক্রের কাছ থেকে সাড়ে ৭০০ কেজি (১,৬৫৩ পাউন্ড) মারাত্মক মাদকদ্রব্য, তৈরির কাঁচামাল এবং বিপুল পরিমাণ বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে।
মামলায় ২০ জন সাক্ষীর জবানবন্দির পাশাপাশি আসামিদের মধ্যকার অডিও রেকর্ড ও ভিডিও ক্লিপ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণের পর আদালত সারা খলিফাসহ ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। একই মামলায় আরও ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় ৭ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মিসরের আইনি বাধ্যবাধকতা অনুসারে, এই মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় গুরু ‘গ্র্যান্ড মুফতি’র কাছে ধর্মীয় মতামত চাওয়া হয়েছিল। মুফতির অনুমোদনের পর আদালত এই ঐতিহাসিক রায় নিশ্চিত করেন।
জনপ্রিয় টিভি শো ‘মিশন ইম্পসিবল’-এর মাধ্যমে ক্রাইম রিপোর্টিংয়ে আলোড়ন তোলা সারা খলিফা শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। আদালতে তিনি দাবি করেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর কার্যালয়ে নিয়ে ছবি তোলার আগে তিনি কখনো মাদক চোখেও দেখেননি।
সারা খলিফার আইনজীবী জানিয়েছেন, আদালতের এই কঠোর রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল দায়ের করা হবে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে অপরাধ দমনে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন