প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অস্ট্রেলিয়ার সরকার সতর্ক করেছে যে চলতি শতকের ৬০-এর দশকের মধ্যে দেশে জন্মহারের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে অস্ট্রেলিয়া, জাপান, জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর মতো জনসংখ্যাগত সংকটের সম্মুখীন হতে পারে।
এই পূর্বাভাসটি অস্ট্রেলিয়ার ট্রেজারি বিভাগের সাম্প্রতিক ‘ইন্টারজেনারেশনাল রিপোর্ট’-এ উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে ২০৬৫-৬৬ অর্থবছরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা ৩ কোটি ৯৩ লাখে পৌঁছাবে, যা ২০২৩ সালের পূর্বাভাসের চেয়ে ১৮ লাখ কম।
প্রতিবেদনের প্রধান তথ্যসমূহ:
জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি হ্রাস: আগামী চার দশকের মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বার্ষিক গড়ে ০.৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা বিগত ৪০ বছরের গড় ১.৪ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
প্রবীণ জনসংখ্যা বৃদ্ধি: ২০৬৫-৬৬ সালের মধ্যে ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী অস্ট্রেলীয়দের সংখ্যা তিন গুণ বৃদ্ধি পাবে।
জন্মহার হ্রাস ও অভিবাসন নির্ভরতা: দেশের প্রজনন হার (ফার্টিলিটি রেট) কমে ১.৩৪-এ নেমে যাবে। ফলে জনসংখ্যার যেকোনো প্রবৃদ্ধি সম্পূর্ণরূপে আন্তর্জাতিক অভিবাসনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।
যদিও জন্মহার কমছে এবং প্রবীণদের সংখ্যা বাড়ছে, সরকারের আশা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কর্মক্ষেত্রে নারী ও প্রবীণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ফলে ২০৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে দেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণেরও বেশি হবে।
অস্ট্রেলিয়ার ট্রেজারার জিম চালমারস মন্তব্য করেছেন, "আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের ঝুঁকির মুখে থাকলেও অস্ট্রেলিয়া অন্যান্য দেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো সুযোগ নেই।"
অন্যদিকে, ব্যবসায়িক সংগঠন ‘বিজনেস কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়া’ এই অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী ব্রান ব্ল্যাক জানিয়েছেন, উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাওয়ার কারণে বর্তমানে প্রতি অস্ট্রেলীয় নাগরিকের বার্ষিক মাথাপিছু আয় ২০২৩ সালের অনুমানের তুলনায় প্রায় ২,০০০ ডলার কমে গেছে। ফলে এআই প্রযুক্তি রাতারাতি অর্থনীতিতে কতটা সুফল আনবে, তা নিয়ে তারা সন্দিহান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন