প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ, তরুণীর নম্বর চেয়ে গভীর রাতে ফোন
বরিশালের উজিরপুরে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় এক শয্যাশায়ী ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য রাখা ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গৌরনদী সার্কেলের সদস্যদের বিরুদ্ধে। একই পরিবারের কাছ থেকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে গত এক মাসে দুই দফায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী। তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ওড়াবাশবাড়ি গ্রামের কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়। স্থানীয়দের দাবি, তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি। এ সময় অভিযান ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে স্থানীয়রা ডিএনসির সদস্যদের ঘিরে রাখেন।
কামরুজ্জামান কালুর স্ত্রী সুখী বেগম অভিযোগ করেন, অভিযানের শুরুতে তাঁর স্বামীকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে ও তাঁর মেয়েকে দুর্ব্যবহার করা এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
সুখী বেগমের দাবি, তল্লাশির সময় তাঁর শয্যাশায়ী স্বামীর চিকিৎসার জন্য বালিশের নিচে রাখা ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যান ডিএনসির সদস্যরা। এর আগেও গত এক মাসে দুই দফায় তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযান চলাকালে মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ডিএনসির সিপাহি খাইরুল ইসলাম এক তরুণীর ফোন থেকে নম্বর সংগ্রহ করে বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে তাঁকে ফোন করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ওই তরুণীর দাবি, ফোনে খাইরুল জানান, ঘটনাস্থলে উত্তেজনার সৃষ্টি হওয়া তরুণীকে তাঁর পছন্দ হয়েছে এবং তাঁর ফোন নম্বর প্রয়োজন। নম্বর না দিলে পরদিন সকালে তাঁদের বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর কথাও বলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিএনসি গৌরনদী সার্কেলের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার। তাঁর সঙ্গে সিপাহি খাইরুল ইসলাম, রুবেল হোসেন, ফয়সাল হোসেনসহ আরও কয়েকজন সদস্য ছিলেন।
এসআই ফাইজুল ইসলাম বলেন, কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর ভাষায়, “আমরা সেখানে একটি নিষ্ফল অভিযান করেছি।”
তবে ১৫ হাজার টাকা নেওয়া এবং আগের দুই দফায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। অন্যদিকে, সিপাহি খাইরুলের বিরুদ্ধে তরুণীর ফোন নম্বর চেয়ে গভীর রাতে যোগাযোগের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের আচরণ সত্যিই ঘৃণ্য। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল ডিএনসির উপপরিচালক মো. তানভীর হোসেন খান বলেন, গৌরনদী সার্কেলের একটি অভিযানের বিষয়ে তিনি জানেন। তবে সেটি উজিরপুরে হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত নন। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, এসআই ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার প্রায় সাত বছর ধরে গৌরনদী সার্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন দলের বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়া ও উজিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযানকে কেন্দ্র করে হয়রানি ও অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন