প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করার উদ্দেশ্যে শনিবার নয়াদিল্লির দিকে রওনা হন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন শুরু হওয়ার পূর্বেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন’ বলে মনে হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে দীপ দিল্লির পরিস্থিতি এবং সমর্থকদের ওপর দমন-পীড়নের সমালোচনা করেন।
মুম্বাই বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দীপ বলেন, দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং ট্রেন বাতিলের ঘটনাগুলি সরকারের ভয়ের চিহ্ন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘এসব ঘটনা শক্তির পরিচয় নয় বরং এমন এক নেতার লক্ষণ, যিনি নিজের দেশের মানুষকেই ভয় পান।’
পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘আমাদের বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন।’ দীপ আরও বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো এবং রাজধানীতে চলাচলে বাধা দেওয়া শক্তির পরিচয় নয়। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বোঝা যায়, প্রধানমন্ত্রী নিজের দেশের মানুষকে ভয় পান।’
তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিক্ষোভে যোগ দিতে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে আসার পর সেখান থেকেই তাকে আটক করা হয়েছে। সকাল ১০টা ১৯ মিনিট নাগাদ দিল্লি বিমানবন্দরে তাদের বিমান অবতরণ করে।
পুলিশ যখন উড়োজাহাজে প্রবেশ করে, তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে সরাসরি সম্প্রচারে (লাইভ) যান অভিজিৎ দীপক। তার পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, উড়োজাহাজের ভেতর থেকেই দীপকে এবং সিজেপির আরো দুই সদস্য, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করছে পুলিশ সদস্যরা।
দিল্লি পুলিশের ধারণা, যন্তর মন্তরে প্রায় ৭ হাজার মানুষ বিক্ষোভে যোগ দিতে পারেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের শান্ত থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পূর্বে দিল্লিতে ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। এদিকে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় অনলাইনে কিছু তথ্য সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছে।
সিজেপির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সকাল ১০টার মধ্যে দিল্লিতে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চলাকালে ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং ভোটার নিবন্ধনের ফরম ৬-এ পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিজেপি।
এদিকে সিজেপির সমর্থকরা যাতে বিভিন্ন রাজ্য থেকে দিল্লিতে এসে জড়ো না হন, সে জন্য রাজ্যগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নিরাপত্তার কারণে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। পাশাপাশি, নয়াদিল্লি এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে মানুষকে বিধিনিষেধ মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন