প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৬ সালের সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ এ প্রশ্নপত্র ফাঁস, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তপ্ত দিল্লি। গত প্রায় এক মাস ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছে।
এরই মধ্যে, অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে ‘সংসদ চলো’ অভিযানকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। ওই অভিযানে শিক্ষার্থীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন নিয়ে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দেয়।
এমনকি শিক্ষার্থীদের সেই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে রাহুল, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অখিলেশ যাদবের বিক্ষোভও অন্য মাত্রা যোগ করে। এই ইস্যুতে সরকার পক্ষের বিবৃতিও দাবি করছে বিরোধীরা।
এমন এক আবহে নীরবতা ভেঙে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষণা, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার ‘ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত’ গঠন করবে।
বৃহস্পতিবার মোদি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা ‘ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
দৃঢ়তার সাথে প্রধানমন্ত্রী জানান, আমাদের যুবসমাজের কল্যাণ ও তাদের ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নেই। যারা আমাদের যুবসমাজের ভবিষ্যতের ক্ষতি করার চেষ্টা করবে, তাদের রেয়াত করা হবে না।
প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার মধ্যে দিয়ে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, এই ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানো এবং তাদের ক্ষোভ প্রশমিত করার লক্ষ্যে সরকারের একটি প্রচেষ্টা।
তবে প্রধানমন্ত্রীর টুইটের জবাব দিতে দেরি করেননি লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। প্রধানমন্ত্রীকে যুবসমাজের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় ক্ষতিসাধনকারী হিসেবে চিহ্নিত করে তোপ দেগেছেন।
এক্স হ্যান্ডেলে রাহুল লেখেন, ‘আপনিই (প্রধানমন্ত্রী) আমাদের তরুণদের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছেন। আপনি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে পুরোপুরি কবজা ও ধ্বংস করার সুযোগ দিয়েছেন এবং তাতে উৎসাহ জুগিয়েছেন। পাশাপাশি এর জন্য দায়ী প্রত্যেক ব্যক্তিকে সুরক্ষা দিয়েছেন।’
শিক্ষার্থীরা যে দাবিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন সেই দাবিগুলোও ফের একবার পুনর্ব্যক্ত করে কংগ্রেস সাংসদ লেখেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি স্পষ্ট: ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করুন। শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চান। যারা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।’
বুধবারই এই ইস্যুতে মোদি সরকারকে নিশানা করে রাহুল অভিযোগ করেন, গত ১০ বছরে ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও একজনও দোষী সাব্যস্ত হয়নি। রাহুলের এমন অভিযোগের ঠিক পরের দিনই প্রধানমন্ত্রী মোদির এই ঘোষণা সামনে এলো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন