প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গান্ধীজয়ন্তীর ছুটির দিন, ২ অক্টোবর মুক্তির পর বিশ্বব্যাপী প্রথম দিনে ৯৫ কোটি ১০ লাখ রুপি আয় করেছে অজয় দেবগন অভিনীত ‘দৃশ্যম ৩: দ্য কনক্লুশন’। ছবিটি বক্স অফিসে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভারতে ছবিটির নিট আয় ৬৬ কোটি ৭৫ লাখ রুপি। মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৮০ কোটি ১০ লাখ রুপি। বিদেশের বাজার থেকে এসেছে আরো ১৫ কোটি রুপি।
এইভাবে, অজয় দেবগনের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় উদ্বোধনী আয় করা সিনেমা হিসেবে ‘দৃশ্যম ৩’ জায়গা করে নিয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে এটি অন্যতম বড় হিন্দি সিনেমার উদ্বোধনী ব্যবসা।
প্রথম দিনেই ৬৬ কোটি ৭৫ লাখ রুপি নিট আয় করে অজয়ের পূর্ববর্তী সব বড় ওপেনিংকে পেছনে ফেলেছে ‘দৃশ্যম ৩’। এতদিন অভিনেতার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় উদ্বোধনের রেকর্ড ছিল ২০২৪ সালের ‘সিংহাম এগেইন’-এর দখলে। রোহিত শেঠি পরিচালিত সিনেমাটি প্রথম দিনে ভারতে আয় করেছিল প্রায় ৪৩ কোটি ৫০ লাখ রুপি।
অজয়ের অন্যান্য বড় ওপেনিংগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সিংহাম রিটার্নস’ ৩২ কোটি ১০ লাখ, ‘গোলমাল এগেইন’ ৩০ কোটি ১৫ লাখ এবং ‘রেইড ২’ ১৯ কোটি ২৫ লাখ রুপি। অর্থাৎ, আগের রেকর্ড শুধু ভাঙেনি ‘দৃশ্যম ৩’, বরং বড় ব্যবধানও তৈরি করেছে।
অজয়ের ব্যক্তিগত রেকর্ড ছাড়িয়ে সিনেমাটি হিন্দি সিনেমার বড় উদ্বোধনের তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছে। প্রথম দিনের ৬৬ কোটি ৭৫ লাখ রুপি আয় দিয়ে শাহরুখ খানের ‘পাঠান’ এবং রণবীর কাপুরের ‘অ্যানিমেল’-এর উদ্বোধনী আয়কে পেছনে ফেলেছে ছবিটি। ‘পাঠান’ প্রথম দিনে আয় করেছিল ৫৭ কোটি রুপি। অন্যদিকে ‘অ্যানিমেল’-এর আয় ছিল প্রায় ৬৩ কোটি রুপি।
তবে, হিন্দি সিনেমার সর্বকালের সবচেয়ে বড় উদ্বোধনের রেকর্ড এখনো ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সিনেমাগুলোর দখলে। তাই ‘দৃশ্যম ৩’কে বলিউডের সর্বকালের সবচেয়ে বড় ওপেনার বলা যাচ্ছে না। তবে সাম্প্রতিক হিন্দি সিনেমাগুলোর মধ্যে এর উদ্বোধন যে বড়, তা স্পষ্ট।
‘দৃশ্যম ৩’-এর প্রথম দিনের ব্যবসার আভাস মুক্তির আগেই পাওয়া গিয়েছিল। ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয় সিনেমাটির অগ্রিম টিকিট বিক্রি। মুক্তির আগেই শুধু অগ্রিম বুকিং থেকে আয় ৫০ কোটি রুপি ছাড়িয়ে যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৩ লাখের বেশি টিকিট আগাম বিক্রি হয়েছিল।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছিল, অগ্রিম বুকিংয়ের গতি দেখে প্রথম দিনেই ৫০ কোটি রুপি আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের উপস্থিতি সেই প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যায়।
প্রথম দিনে ভারতে সিনেমাটির ১৫ হাজার ৭৫৯টির বেশি শো হয়েছে। সকালে আসন পূর্ণতার হার ছিল ৪৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। দুপুরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭০ দশমিক ১৫ শতাংশে। সন্ধ্যায় ৭৫ দশমিক ৩১ এবং রাতে ৭৬ দশমিক ৪৬ শতাংশে পৌঁছায়। পুরো দিনের গড় আসন পূর্ণতার হার ছিল ৬৭ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।
মুক্তির আগে বাণিজ্য বিশ্লেষকদের অনেকেই ধারণা করেছিলেন, প্রথম দিনে ‘দৃশ্যম ৩’ ২৫ থেকে ৩০ কোটি রুপি আয় করতে পারে। কিন্তু অগ্রিম বুকিংয়ের গতি সেই হিসাব বদলে দেয়।
শেষ পর্যন্ত ৬৬ কোটি ৭৫ লাখ রুপি নিট আয় করে সিনেমাটি পূর্বাভাসের দ্বিগুণেরও বেশি ব্যবসা করেছে। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, প্রত্যাশার তুলনায় অনেক ভালো শুরু পেয়েছে সিনেমাটি। এই সাফল্যের পেছনে শুধু অজয় দেবগনের তারকা-ক্ষমতা নয়, বড় ভূমিকা রেখেছে ‘দৃশ্যম’ ব্র্যান্ডও। প্রথম দুই কিস্তির জনপ্রিয়তা তৃতীয় ছবির জন্য দর্শকের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছিল।
২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া প্রথম ‘দৃশ্যম’ প্রথম দিনে আয় করেছিল মাত্র ৫ কোটি ৮৫ লাখ রুপি। পরে দর্শকের মুখে মুখে সিনেমাটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশ্বব্যাপী ছবিটির আয় দাঁড়ায় প্রায় ১১০ কোটি রুপি। এরপর ২০২২ সালে মুক্তি পায় ‘দৃশ্যম ২’। প্রথম দিনে ছবিটির আয় ছিল ১৫ কোটি ৩৮ লাখ রুপি। শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী সিনেমাটি প্রায় ৩৪২ কোটি রুপি আয় করে।
এবার তৃতীয় কিস্তির প্রথম দিনের নিট আয় ৬৬ কোটি ৭৫ লাখ রুপি। অর্থাৎ ২০১৫ সালের প্রথম কিস্তির উদ্বোধনী আয়ের তুলনায় ‘দৃশ্যম ৩’-এর প্রথম দিনের আয় ১১ গুণেরও বেশি। দ্বিতীয় কিস্তির তুলনায় তা চার গুণেরও বেশি। এক দশকে একটি সিনেমা সিরিজ কীভাবে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজিতে পরিণত হতে পারে, এই পরিসংখ্যান তারই প্রমাণ।
অভিষেক পাঠক পরিচালিত ‘দৃশ্যম ৩’-এ অজয় দেবগনের সঙ্গে সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন শ্রিয়া শরণ, ইশিতা দত্ত, মৃণাল যাদব, জয়দীপ আহলাওয়াত, তাবু ও প্রকাশ রাজ প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন