প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজন কি বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন? তিনি কোথায় আছেন? কেমন আছেন? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মানুষের মনে একই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।
রাজনের ফেসবুক পেজে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং সুস্থভাবে ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা দেখা যাচ্ছে। যিনি প্রতিদিন যুদ্ধের ময়দান থেকে অন্যদের খবর জানাতেন, আজ তার খবরই অজানা। একটি ভিডিও, একটি বার্তার অপেক্ষায় অসংখ্য মানুষ।
মো. রাজন হোসাইন তার পুরো নাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘রাজন অন দ্য গো’ নামে পরিচিত। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ, প্রাণহানি এবং যুদ্ধের ভয়াবহ বাস্তবতা নিয়ে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করতেন তিনি।
এছাড়া, অন্য বাংলাদেশিরা যেন অর্থের প্রলোভনে পড়ে যুদ্ধে যোগ না দেন, সেই সতর্কবার্তাও তিনি বহুবার দিয়েছেন।
জানা গেছে, রাজন রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছিলেন। ১৯ অক্টোবর ফ্রন্টলাইনে যাওয়ার আগে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, সুস্থ থাকলে এক-দুই মাসের মধ্যে দেশে ফিরবেন। একই দিনে যুদ্ধ বন্ধ এবং বিশ্বশান্তির আহ্বান জানিয়ে একটি বার্তাও দেন।
কিন্তু ওই দিন সকাল ১১টায় দেওয়া ভিডিওবার্তার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। প্রায় আট দিন পেরিয়ে গেছে। নতুন কোনো পোস্ট, ভিডিও, বা সুস্থ থাকার খবর নেই।
যিনি অন্যদের বিপদের খবর জানাতেন, আজ তার নিজের পরিণতি নিয়েই দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। ফ্রন্টলাইনে গিয়ে কি কোনো বিপদে পড়েছেন তিনি, নাকি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় খবর দিতে পারছেন না? এসব প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর এখনো মেলেনি। তার মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত নয়।
রাজনের এই নীরবতা অনেক মানুষের মনে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ তার পুরোনো ভিডিও শেয়ার করছেন, কেউ সুস্থতার প্রার্থনা করছেন। সবাই অপেক্ষা করছেন, কবে আবার তার পরিচিত কণ্ঠে জানাবেন তিনি ভালো আছেন।
সবার চাওয়া একটাই—যুদ্ধের ময়দান থেকে আর কোনো মৃত্যুর খবর নয়, রাজনের কাছ থেকে আসুক বেঁচে থাকার বার্তা। নিরাপদে, সুস্থ শরীরে ফিরে আসুন নিজের দেশে, নিজের মানুষের কাছে। রাজন, তুমি যেখানেই থাকো, ভালো থেকো। তোমার অপেক্ষায় আছে অনেক মানুষ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন