প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভেনেজুয়েলার বেশ কিছু তেলক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ এবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে যাচ্ছে, যা চীন ও রাশিয়ার কোম্পানির হাত থেকে চলে আসছে। মার্কিন তেল কোম্পানি নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স এসব তেলক্ষেত্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে, সোমবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বড় ধরনের তেল উৎপাদন চুক্তির অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন ঘটছে। এতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে চীন ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রভাবও কমে যাবে।
ভেনেজুয়েলা সরকার নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সকে নতুন করে ১৪টি তেল প্রকল্প দিয়েছে, এমনটি জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দেশটিতে ১৭টি প্রকল্প পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ পাবে। এসব প্রকল্পে উৎপাদন বৃদ্ধি করে তেলের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স আগে মার্কিন তেল ব্যবসায়ী হ্যারি সার্জেন্টের মালিকানায় ছিল। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণে আছেন ভেনেজুয়েলার ব্যবসায়ী আলেহান্দ্রো বেটানকোর্ট। তিনি চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, "ভেনেজুয়েলার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হলে দেশটির মানুষ এবং যুক্তরাষ্ট্র—দুই পক্ষই উপকৃত হবে।"
চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনার মূল দায়িত্ব থাকবে নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সের হাতে। তবে কোম্পানিটির ৩৫ শতাংশ অংশীদারিত্বের ওপর মার্কিন সরকারের অধিকার থাকবে। পাশাপাশি কোম্পানির উৎপাদিত তেলের ২০ শতাংশ উৎপাদন খরচে কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র অগ্রাধিকার পাবে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বাকি ৮০ শতাংশ তেল কেনার ক্ষেত্রেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে সবার আগে কেনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ও পরিচালকদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতাও থাকবে। পরিচালনা পর্ষদের অধিকাংশ সদস্যকে হতে হবে মার্কিন নাগরিক।
নতুন করে দেওয়া ১৪টি প্রকল্পের মধ্যে পাঁচটি আগে চীনা কোম্পানিগুলো পরিচালনা করত। আর একটি প্রকল্পের দায়িত্বে ছিল রাশিয়ার একটি কোম্পানি। চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না কনকর্ড রিসোর্সেস দুটি প্রকল্প পরিচালনা করত। ২০১৯ সালে ইরান-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
আরেকটি প্রকল্প পরিচালনা করত চীনা জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সিনোপেক। অন্য একটি ছিল চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (সিএনপিসি) অধীনে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, "এই চুক্তির ফলে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় নতুন ব্যবসার সুযোগ পাচ্ছে না, দেশটির তেলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রও বড় বাজারে পরিণত হচ্ছে।" এর আগে এসব তেলের একটি বড় অংশ চীনে পাঠানো হতো।
কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, নতুন করে নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সের হাতে যাওয়া দুটি প্রকল্প আগে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলেক্স সাবের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করত। সাব বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন।
আরেকটি তেলক্ষেত্র মাদুরুর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের এক ভাতিজার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। গত সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, বেসরকারি ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত প্রায় ৬৪ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়েছে। সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, "ভেনেজুয়েলা থেকে ‘মিলিয়ন মিলিয়ন ব্যারেল’ তেল যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে।" এসব তেল টেক্সাস ও লুইজিয়ানাসহ বিভিন্ন এলাকার শোধনাগারে পাঠানো হচ্ছে। মঙ্গলবার তেল ও গ্যাস খাতের ব্যবসায়ী এবং শোধনাগার মালিকদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক করার কথা রয়েছে।
তেলের পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের আলোচনা চলছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে নির্বাচিত জাতীয় পরিষদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। দেশটির সাংবিধানিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে তৈরি আইনি প্রশ্নের সমাধান করাই এসব আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য।
ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৫ সালের জাতীয় পরিষদকে ভেনেজুয়েলার সংবিধানের অধীনে সর্বশেষ নির্বাচিত ও কার্যকর আইনসভা হিসেবে বিবেচনা করে। যদিও বর্তমানে ওই পরিষদের কোনো আনুষ্ঠানিক শাসনক্ষমতা নেই। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ওই পরিষদের সঙ্গে সমঝোতা হলে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য একটি সাংবিধানিক ও আইনি ভিত্তি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা দেশটির তেল শিল্পকে আবার সচল করার পথও খুলে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। চীন ও রাশিয়ার প্রভাব কমিয়ে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল প্রকল্পগুলোতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার পথে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন