প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশে বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকার একসঙ্গে ১৫টি মসজিদ সিলগালা করে দিয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত অবৈধ বসতি স্থাপন ও জনসংখ্যার কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়ে স্থানীয় আদিবাসী জনগণের তীব্র আপত্তির মুখে নেওয়া হয়েছে। সাইটগুলো সম্পূর্ণ সিলগালা করার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ ব্যাপারে তথ্য জানানো হয়েছে।
রাজ্য প্রশাসন এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে অরুণাচল প্রদেশ ইন্ডিজেনাস ইয়ুথ অর্গানাইজেশন (এপিআইওয়াইও) নামের স্থানীয় আদিবাসী যুব সংগঠনের দীর্ঘ আন্দোলনের পর। যুব সংগঠনটি এই অবৈধ ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ ও অনুপ্রবেশ বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদ জানিয়ে ইটানগর রাজধানী অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টার একটি প্রতীকী হরতাল পালন করেছিল। সংগঠনটি জানিয়েছিল, তাদের দাবি পুর্ণ না হলে আরও বড় আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে রাজ্য সরকারের মুখপাত্র ও শিক্ষামন্ত্রী পিডি সোনা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এপিআইওয়াইও প্রতিনিধিদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডুর এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি সরকারের নজরে আসে। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন, যাতে রাজধানী কমপ্লেক্স এলাকায় প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া নির্মিত সকল ধর্মীয় স্থাপনা খুঁজে বের করা হয়। এর ফলস্বরূপ একটি সরকারি জরিপের মাধ্যমে সনাক্ত করা হয় ১৫টি অননুমোদিত মসজিদ।
শিক্ষামন্ত্রী পিডি সোনা আরও জানান, জেলা কর্তৃপক্ষ প্রথমে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ১২টি অননুমোদিত মসজিদ সিলগালা ও খালি করে দেয়। পরে, ১ জুন মুখ্যমন্ত্রী ও আদিবাসী নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে বাকি ৩টি মসজিদ সিলগালা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আন্দোলনকারী সংগঠনের দাবিগুলো আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে। ফলে, প্রশাসন আশা প্রকাশ করছে যে তারা নতুন কোনো হরতাল বা আন্দোলনের ডাক দেবেন না।
এটি অরুণাচল প্রদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশ, জনসংখ্যার দ্রুত পরিবর্তন এবং স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিকে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাজ্য কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, অরুণাচল প্রদেশের উন্মুক্ত আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক সীমান্তগুলো অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন।
এর আগে মে মাসে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডুর সভাপতিত্বে স্থানীয় আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং রাজ্যে প্রবেশাধিকারের বিশেষ ব্যবস্থা ইনার লাইন পারমিট (আইএলপি) জোরদার করার বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পরামর্শমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডু আদিবাসী সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এই চ্যালেঞ্জ কেবল অরুণাচল প্রদেশের নয়, বরং এটি সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে ইনার লাইন পারমিট পরিচালনা ও তদারকির জন্য একটি নতুন সরকারি বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন