প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জলবায়ু ঝুঁকির দিক থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ১৩তম অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর ফলে তাপজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।
জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে রবিবার (৩০ আগস্ট) প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য প্রদান করেন। এ সময় সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীরবিক্রম) সভাপতিত্ব করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী তাপজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুর হার বাড়াচ্ছে।
‘গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স ২০২৬’ অনুযায়ী, বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে ১৩তম।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশ জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন কাঠামো (ইউএনএফসিসিসি)-এর আওতায় ‘ন্যাশনাল অ্যাডাপটেশন প্ল্যান’ (ন্যাপ) প্রণয়ন করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে।
এছাড়া, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর জন্য বাংলাদেশ ‘থার্ড ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন্স’ (এনডিসি ৩.০) প্রণয়ন করে ইউএনএফসিসিসি-তে দাখিল করেছে।
এনডিসি ৩.০ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০৩৫ সালের মধ্যে নিজস্ব সক্ষমতায় বা শর্তহীনভাবে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা ২৬ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়ার শর্তে বাংলাদেশ আরও ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ বা ৫৮ দশমিক ২৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
দীর্ঘমেয়াদে নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে ‘লং টার্ম লো এমিশন ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস’ (এলটি-এলইডিএস) প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে।
এছাড়া, কার্বন বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ করার জন্য একটি সমন্বিত ‘কার্বন মার্কেট ফ্রেমওয়ার্ক’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এই কাঠামোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্বন বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানো, পরিবেশসম্মত উচ্চমানের প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং কার্বন ক্রেডিট লেনদেনের মাধ্যমে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও জলবায়ু অর্থায়ন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন