প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে, বিজেপি কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। তিনি জানান, বিজেপি তাদের লোক পাঠিয়ে কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য প্রদানকালে মমতা এই অভিযোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি অত্যাচার বন্ধ না হয়, তাহলে তিনি দিল্লিতে গিয়ে বিজেপি নেতাদের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসবেন।
এর আগে, বুধবার সকালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয়ে হামলার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কয়েকজন দুষ্কৃতীকারীরা কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং কর্মীদের মারধর করে। থানায় ফোন করেও কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি বলে অভিষেক অভিযোগ করেন। তিনি দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
বিকেলে ফেসবুক লাইভে মমতা এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, "মধ্যরাতে আমাদের দফতরে গুন্ডা পাঠিয়েছে বিজেপি।" তার দাবি, কার্যালয়ের কাগজপত্র, দলিল ও গুরুত্বপূর্ণ নথি তছনছ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চারজনকে কার্যালয়ের ভেতরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।
মমতা উল্লেখ করেন, ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয়ের পাশেই শেক্সপিয়র সরণি থানা অবস্থিত। ওই থানাসহ একাধিক থানার ভূমিকা তারা নজরে রাখছেন। তার ভাষায়, "চিরকাল বিজেপি থাকবে না।"
ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার উল্লেখ করে মমতা বলেন, এটি ‘মধ্যরাতের বর্বরতা’। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কলকাতার মতো শহরে যদি মধ্যরাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটে, তাহলে গ্রামবাংলায় কী হচ্ছে, তা নিয়ে ভাবা প্রয়োজন।
মমতা অভিযোগ করেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর পুলিশ রক্ষক থেকে ভক্ষক হয়ে গেছে। তবে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি সম্মান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু পুলিশ সদস্য প্রমাণ নষ্ট করা ও সাক্ষীদের ওপর হামলার মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছেন। তিনি বারুইপুরের গণধর্ষণকাণ্ড এবং ওই ঘটনায় পুলিশের এনকাউন্টারের ভূমিকাও উল্লেখ করেন।
এদিকে, ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয় থেকে এয়ার পিউরিফায়ার, প্রিন্টার, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। ইতোমধ্যে পুলিশ এই ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বিজেপির বিধায়ক সজল ঘোষ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি সাজানো। তিনি প্রশ্ন করেন, গভীর রাতে তৃণমূলের কর্মীরা কেন কার্যালয়ে ছিলেন।
মমতা আরও বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অত্যাচার নিয়ে প্রয়োজনে দিল্লি পর্যন্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলন করা হবে। তিনি বলেন, অত্যাচার বন্ধ না হলে তিনি দিল্লিতে গিয়ে বিজেপি নেতাদের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসবেন।
হকার উচ্ছেদ, দোকান ভাঙা এবং মধ্যরাতে বিভিন্ন অভিযান নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন মমতা। সাধারণ মানুষকে শান্তিতে থাকার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার।
মমতা মন্তব্য করেন, বিরোধী কণ্ঠকে দীর্ঘদিন দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি রাজ্য সরকারের কাছ থেকে কোনো নিরাপত্তা পাচ্ছেন না দাবি করে বলেন, তাঁর নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছে এবং এ নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সতর্ক করে মমতা বলেন, দুষ্কৃতকারীদের রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠিয়ে বিজেপি নিজেদের দলীয় কাঠামোকেই দুর্বল করছে। এতে দলের প্রকৃত কর্মী-সমর্থকদের হারাতে হচ্ছে এবং পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মমতা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে দাবি করেন, তাদের চার হাজারের বেশি দলীয় কার্যালয় দখল করা হয়েছে, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন এফআইআর করা হচ্ছে এবং অনেককে বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব মামলা ও চাপ দিয়ে তৃণমূলকে থামানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন