প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন যে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর রাজনৈতিক ও সামাজিক আদর্শকে উপড়ে না ফেলা পর্যন্ত ভারতে স্থায়ী শান্তি ফিরে আসা সম্ভব নয়। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি তাঁর একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
খাড়গের এই মন্তব্য ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে আরএসএস এবং ভারতের শাসনব্যবস্থায় তাদের আদর্শিক প্রভাব নিয়ে কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে। কংগ্রেস দীর্ঘকাল ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আরএসএস এবং তার সহযোগী সংগঠনগুলো এমন একটি ভারতের রূপরেখা প্রচার করছে, যা দেশের বহুত্ববাদী এবং ধর্মনিরপেক্ষ চেতনাকে ক্ষুণ্ন করছে।
বর্তমানে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আদর্শগত চালিকাশক্তি হিসেবে আরএসএস কাজ করছে, যা মূলত হিন্দু সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে তাদের ভারতীয় জাতীয়তাবাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে। সংগঠনটি এবং তার সমর্থকরা ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংখ্যালঘু অধিকার সম্পর্কিত সমস্ত অভিযোগ নাকচ করে দাবি করে যে, তাদের জাতীয়তাবাদী ভাবধারা ভারতের জাতীয় স্বার্থের অনুকূল।
খাড়গের এই মন্তব্য ধর্মনিরপেক্ষতা, ধর্মীয় বহুত্ববাদ এবং রাজনীতিতে ধর্মের অবস্থান সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে পুনরায় ভারতের মূল রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে মনে করে যে, দেশের সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত নাগরিককে সমান অধিকার দেওয়া উচিত এবং সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ সামাজিক সম্প্রীতির জন্য একটি বড় হুমকি।
ভারতে সংখ্যালঘু অধিকার, ধর্মীয় পরিচয় এবং জাতীয়তাবাদের ব্যাখ্যা নিয়ে চলমান বিতর্কের মাঝে আরএসএস-এর আদর্শগত প্রভাব নিয়ে এই দ্বন্দ্ব বহুদিন ধরেই ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কংগ্রেসের জন্য দেশের সাংবিধানিক মূল্যবোধ ধরে রাখা এবং বহুত্ববাদী ঐতিহ্য রক্ষা করাই প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য। অন্যদিকে, বিজেপি এবং আরএসএস বিরোধী দলগুলোর সমালোচনাকে প্রতিহত করে নিজেদের জাতীয়তাবাদী ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবস্থানকেই সমর্থন জানিয়ে আসছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন