প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের বিহার রাজ্যের কাটিহার জেলার একটি জনবহুল বাজারে সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরের বেলায় এক মুসলিম আইনজীবীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানদারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত ব্যক্তির নাম আজিমুদ্দিন, যিনি ‘গুড্ডু আনসারি’ নামেও পরিচিত ছিলেন। কাটিহার টাউন থানা এলাকার কুমহার টোলির প্যাটেল চকের কাছে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আনসারি যখন বাজারে ছিলেন, তখন তিনজন ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে তাঁকে ঘিরে ফেলে। তাদের মধ্যে একজন পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গুরুতর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আনসারিকে কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, হামলাকারীরা বাজারের মধ্যে আজিমুদ্দিন আনসারির দিকে হেঁটে আসছে। এরপর তাদের মধ্যে একজন আগ্নেয়াস্ত্র বের করে তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করে এবং তারপর তারা দলবদ্ধভাবে এলাকা ত্যাগ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, আজিমুদ্দিনকে গুলি করার পর তিনি রাস্তার পাশে লুটিয়ে পড়েন। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘেরাও করে আলামত সংগ্রহ করেছে। হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে এবং অপরাধ সংঘটনের আগে ও পরে তাদের গতিবিধি নিশ্চিত করতে এলাকার সিসিটিভি রেকর্ডিং পরীক্ষা করা হচ্ছে।
আজিমুদ্দিন আনসারির পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন যে, পূর্ববর্তী একটি বিরোধের কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। নিহতের এক আত্মীয় দাবি করেছেন, প্রায় তিন মাস আগে স্থানীয় আদালতে আইনজীবী আজিমুদ্দিনের সাথে এক ব্যক্তির বাকবিতণ্ডা হয়েছিল এবং সেই বিরোধের পর তাঁকে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
মোহাম্মদ মমতাজ আলম নামে নিহতের পরিবারের এক সদস্য পুরোনো বিরোধের সূত্র ধরে এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে পুলিশ এখনো এর মূল উদ্দেশ্য কিংবা জড়িতদের পরিচয় সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।
কাটিহারের ডিএসপি বিশাল আনন্দ জানিয়েছেন, গুলি চালানোর ঘটনার তথ্য পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং তারা সম্ভাব্য সব দিক থেকে বিষয়টি তদন্ত করছে।
হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারীরা অপরাধের ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণাদি খতিয়ে দেখছেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য মরদেহটি পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি সাপেক্ষে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল উদ্দেশ্য এবং হামলাকারীদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন