প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, দাসত্বের সাংবাদিকতা মানুষের মনে গভীর ঘৃণা সৃষ্টি করে। তিনি উল্লেখ করেছেন, "১৭ বছর আমরা অনেক সাংবাদিককে দাসত্বের সাংবাদিকতা করতে দেখেছি।" এই পরিস্থিতির কারণে ফ্যাসিবাদী শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে এবং সাংবাদিকদের মর্যাদা অনেকাংশে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
তিনি আরও বলেছেন, "দলীয় ব্যানারের আড়ালে ক্ষমতার সাথে আঁতাত করে জনগণের স্বার্থ বিসর্জন যারা দিয়েছে, তারা আজকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।" কিছু ব্যক্তি দেশ ছেড়ে পালিয়েছে এবং কেউ লজ্জায় জনসম্মুখে আসতে পারছেন না। তিনি বলেন, "এখান থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। ৫ আগস্ট আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে শিখিয়ে গেছে— সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতে হবে।" সাংবাদিকদের এই দায়িত্ব পালন করতে হবে।
আজ দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে সাংবাদিকদের কল্যাণে করণীয় বিষয়ক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন যৌথভাবে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা’র সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির (বাছির জামাল)।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতা হচ্ছে সত্যের আরাধনা। তিনি উল্লেখ করেন, "সাংবাদিকরা মানুষের পক্ষে দাঁড়ায় একেবারে নিজ থেকে, সেজন্য কোনো বিনিময় দেওয়া লাগে না।" আইনজীবী, কৃষিবিদ, ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে সেবার বিনিময়ে টাকা দিতে হয়, কিন্তু সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। যদিও বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে পেশাদারিত্বের অবনমন ঘটেছে। তিনি সাংবাদিকতাকে একটি পেশা মনে করেন না, বরং এটি একটি মিশন, যার কাজ হচ্ছে ক্ষমতার মুখে সত্য উচ্চারণ করা।
তিনি আরও বলেন, "জনগণের আস্থা হারানো মানেই সাংবাদিকতার মৃত্যু।" সাংবাদিকতা কোনো মুনাফাভিত্তিক ব্যবসা নয়, বরং এটি একটি পবিত্র কাজ। তিনি জানান, "দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য— অপসাংবাদিকতা ও হলুদ সাংবাদিকতা আজকে ছেয়ে গেছে।"
বাসস এমডি বলেন, সাংবাদিকের কাজ হচ্ছে সত্য খুঁজে বের করা এবং সেই সত্যকে রক্ষা করা। তিনি বলেন, "সত্য না থাকলে আস্থা থাকে না।" আস্থা না থাকলে গ্রহণযোগ্যতাও থাকে না। তাই সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে মিথ্যা বা অর্ধ সত্যের কোনো স্থান নেই। তিনি মনে করিয়ে দেন, "দেশের জনগণ ছাড়া কোনো দল-মতের কাছে সংবাদ মাধ্যমের দায়বদ্ধতা নেই।" গত ১৭ বছর সত্যনিষ্ঠ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা পাওয়া যায়নি, বরং দাসত্বের সাংবাদিকতা দেখা গেছে। গুম ও খুনের সত্য খবরগুলো গণমাধ্যমে আসেনি, এবং আয়নাঘরের খবরও বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি।
সাংবাদিকদের জন্য দশম ওয়েজবোর্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। গার্মেন্টস কর্মীদেরও বেতন বৃদ্ধি হবে। তিনি উল্লেখ করেন, "অতীতে সকল সময়ে যখনই সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়, একই সময়ের আগে-পরে সাংবাদিকদেরও বেতন বৃদ্ধি করা হয়।" তিনি দৃঢ় বিশ্বাস করেন যে সরকার শিগগিরই দশম ওয়েজবোর্ড ঘোষণা করবে।
ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন নিয়ে সংবাদপত্র মালিকরা ভাঁওতাবাজি করছেন বলে বিএফইউজে মহাসচিব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, "রাষ্ট্র ওয়েজবোর্ড ঘোষণা করে, বড় বড় কয়েকটি পত্রিকা ছাড়া ৯০ শতাংশ পত্রিকা ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন দেয় না।" অথচ তারা দাবি করেন, "আমরা সরকার ঘোষিত ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন দিচ্ছি।" এই মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, "যারা সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন দেন না, তারা বিশ্বাসঘাতক এবং দুর্নীতিবাজ।"
সংবাদপত্রের স্বাধীনতাবিরোধী অনেকগুলো কালা কানুন শেখ হাসিনা তৈরি করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে আহ্বান জানান, "এসব কালা কানুন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।" তিনি বলেন, "আমরা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বলি, কিন্তু সবচেয়ে বড় নিপীড়নটা হয় সাংবাদিকদের ওপর।" তিনি দাবি করেন, "মফস্বল সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন দিতে হবে।" ওয়েজবোর্ডে এটি নিশ্চিত করতে হবে।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সাংবাদিকদের আবাসন ও কল্যাণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও পরবর্তীতে মরহুমা খালেদা জিয়ার সরকার নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, "তাঁদের উত্তরসূরি সরকার সাংবাদিকদের পাশে থাকবেন।"
সাংবাদিকদের জন্য সুরক্ষা নীতিমালা দাবি করে তিনি বলেন, "আমাদের একটি আহ্বান থাকবে— শুধু সংবাদ প্রকাশের কারণে আদালতের অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের গ্রেফতার করা যাবে না।" তবে হলুদ সাংবাদিক বা চাঁদাবাজদের কথা বলছেন না তিনি। সাংবাদিকদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যা বর্তমানে নেই। তিনি বলেন, "এখন সাংবাদিকরা নির্বিঘ্নে লিখতে পারছেন।" তিনি প্রশ্ন করেন, "এমন স্বাধীনতা সাংবাদিকরা অতীতে পেয়েছেন কি না?" তিনি সতর্ক করেন, "আমরা যেন এই স্বাধীনতার অপব্যবহার না করি।"
মতবিনিময় সভাটি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী, বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সভাপতি নাছির উদ্দিন, খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম প্রফুল্ল, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য আমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ আরিফ, সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম শিল্পী, কামরুল হুদা, ইমরান এমি এবং বাকি বিল্লাহ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন