প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শেরপুরের হাজারো নারী স্বাবলম্বী হচ্ছেন, যা তাদের অভাব-অনটন দূর করতে সহায়ক হয়েছে। পরচুলা ও ক্যাপ তৈরির কারখানায় কাজ করে তারা মাসে ১২ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। এসব কারখানায় তৈরি পরচুলার ক্যাপ বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে।
নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী গ্রামের নারী উদ্যোক্তা বিলকিস বেগম এই নারীদের মধ্যে একজন। ১৬ বছর বয়সে বিয়ের পর স্বামীর স্বল্প আয়ে সংসার চালাতে তিনি হিমশিম খেতেন। প্রথমে কাঁথা সেলাইয়ের কাজ শুরু করলেও পরে স্থানীয় উদ্যোক্তা ইছমত আরার কাছ থেকে পরচুলা তৈরির কাজ শেখেন। এরপর তিনি স্বামী মিজানুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে এ ব্যবসায় যুক্ত হন। ঢাকার 'গোল্ডেন হেয়ার ক্যাপ' প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহযোগিতায় তিনি নিজ গ্রামে একটি কারখানা গড়ে তোলেন।
বিলকিসের কারখানায় ১০-১২ জন শ্রমিক নিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে সেখানে প্রায় ২৫০ জন নারী কাজ করছেন। কারখানার কার্যক্রম প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে। একজন শ্রমিক মাসে ১০ থেকে ১৫টি ক্যাপ তৈরি করতে সক্ষম হন। আকারভেদে প্রতিটি ক্যাপের জন্য ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা মজুরি দেওয়া হয়। পাশাপাশি ১ হাজার টাকা হাজিরা বোনাসও রয়েছে।
নালিতাবাড়ীর সিনিয়র সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম জানান, বিলকিস বেগম ছাড়াও নন্নী ইউনিয়নের আবু তালেব, আতাউর রহমান ও নার্গিস বেগমসহ কয়েকজন উদ্যোক্তা এ শিল্প পরিচালনা করছেন। নন্নী পশ্চিম বাজারের ‘আবু তালেব হাউজে’ নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতীর বিভিন্ন গ্রামের এক হাজারের বেশি নারী কাজ করছেন। ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কাঁচামাল এনে তাঁদের মাধ্যমে ক্যাপ তৈরি করে বিদেশে রপ্তানি করা হয়।
এই কাজের মাধ্যমে অসহায়, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত নারী ও শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। রাজনগর গ্রামের হাজেরা বেগম জানান, বিলকিসের কাছ থেকে কাজ শিখে তিনি ও তাঁর মেয়েরা মিলে মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা আয় করছেন। এতে তাঁদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে।
তবে শ্রমিকদের অভিযোগ রয়েছে যে, অনেক ক্ষেত্রে ক্যাপের আকার ও ডিজাইন অনুযায়ী ন্যায্য মজুরি পাওয়া যায় না এবং বেতন পরিশোধেও অনিয়ম রয়েছে। সামান্য ভুলের কারণে ক্যাপ বাতিল হলে পুরো মজুরি থেকে বঞ্চিত হতে হয়।
উদ্যোক্তা বিলকিস বেগম জানান, সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে কারখানা সম্প্রসারণ করে আরও বেশি নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।
বিসিকের শেরপুর জেলা কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক জানান, উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আবেদনের ভিত্তিতে স্বল্প সুদে ক্ষুদ্রঋণ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও নিয়মিত পাওনা পরিশোধের ওপর জোর দিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন