প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জ্বালানি আমদানির দায় পরিশোধের জন্য ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্য বেড়ে গেছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রতি ডলারের দাম ছিল ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা। মঙ্গলবার, তা বেড়ে প্রায় ১২৪ টাকা ২০ পয়সায় পৌঁছেছে। ব্যাংকারদের মতে, মাসের শেষ দিকে জ্বালানি আমদানির দায় পরিশোধের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডলারের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ইস্টার্ন ব্যাংকে ডলারের স্পট বিক্রয়মূল্য ছিল ১২৪ টাকা ১৮ পয়সা এবং ক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা ১৮ পয়সা। গত ১৫ অক্টোবর ব্যাংকটিতে ডলারের বিক্রয়মূল্য ছিল ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা এবং ক্রয়মূল্য ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। এর মানে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে উভয় ক্ষেত্রেই ডলারের দাম ৪৩ পয়সা বেড়ে গেছে।
সিটি ব্যাংক মঙ্গলবার প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৯০ পয়সায় কিনে ১২৪ টাকা ১০ পয়সায় বিক্রি করেছে। ব্র্যাক ব্যাংকে ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ১২৩ টাকা ১৩ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১২৪ টাকা ১৩ পয়সা। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকে ডলারের স্পট ক্রয়মূল্য ছিল ১২২ টাকা ৯৫ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আজ আন্তব্যাংক বাজারে ডলারের গড় বিনিময় হার বেড়ে ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। আগের দিন এ হার ছিল ১২৩ টাকা ৮৩ পয়সা। এক সপ্তাহ আগে এ হার ছিল ১২৩ টাকা ৪৫ পয়সা।
ব্যাংকারদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয় মেটাতে বেশি ডলারের প্রয়োজন হচ্ছে। বিশেষ করে মাসের শেষ দিকে জ্বালানি আমদানির বিপরীতে সরকারি পর্যায়ে অর্থ পরিশোধের চাপ বৃদ্ধি পায়। ফলে ডলারের চাহিদা বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্বস্তিদায়ক অবস্থায় থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয় বাড়ছে। বিশেষ করে মাসের শেষ দিকে জ্বালানি আমদানির দায় পরিশোধে সরকারি পর্যায়ে অর্থের চাহিদা বেড়ে যায়। এতে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং বিনিময় হারে সাময়িক ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, মাসের শুরুর দিকে প্রবাসী আয় বেশি এলেও শেষের দিকে তা কিছুটা কমে আসে। একই সময়ে আমদানি দায় পরিশোধের চাপ বাড়লে ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে সাময়িক অসামঞ্জস্য তৈরি হয়। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি কোনো সংকট নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্টে আমদানি দায় পরিশোধের পরিমাণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২২০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র পেট্রোলিয়াম পণ্যের আমদানি দায় পরিশোধ দ্বিগুণ হয়ে ২৪৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
এদিকে চলতি বছরের ১ থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে ২৪৫ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২১৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় বেড়েছে ২৯ কোটি ডলার।
বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী চাপ থাকলেও দেশের রিজার্ভ স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১৬০ কোটি ডলার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন