প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মানবিক সমাজ গঠনে, সামাজিক অনাচার, নৈতিক অবক্ষয় ও বৈষম্য দূরীকরণে কবি-সাহিত্যিকদের গুরুত্ব অপরিসীম বলে মন্তব্য করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন।
বুধবার (১৭ জুন), রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের স্টার কাবাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে জাতীয় কবিতা কেন্দ্রের (জাকক) ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘মানবিক সমাজ বিনির্মাণে কবি এবং কবিতার ভূমিকা’ শীর্ষক একটি সেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
এ সেমিনারের আয়োজন ‘সমাজ পরিবর্তনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম কবিতা’ এবং ‘সৃষ্টিসুখের উল্লাসে’ স্লোগানকে সামনে রেখে করা হয়।
খায়রুল কবির খোকন বলেন, নৈতিক অবক্ষয়, মাদক, সন্ত্রাস, নারী ও শিশু নির্যাতন থেকে সমাজকে মুক্ত করতে সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন ও সংঘবদ্ধ করতে কবি-সাহিত্যিকরাই প্রধান ভূমিকা পালন করতে পারেন। একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চাকে আরও বিস্তৃত করতে হবে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কবিতা কেন্দ্রের সভাপতি এবং দৈনিক যুগান্তরের নগর সম্পাদক মিজান মালিক। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, যারা কবিতাকে ভালোবাসেন তারা সাধারণত সংবেদনশীল ও মানবিক মানুষ। কবিতার আশ্রয়ে থাকা মানুষেরা অনেক ব্যক্তিগত স্বার্থ ও ভোগ-বিলাস ত্যাগ করে সমাজ ও মানবতার পক্ষে অবস্থান নেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাইম ব্যাংক পিএলসির এভিপি এবং জাতীয় কবিতা কেন্দ্রের সম্পাদক লায়ন অ্যাডভোকেট আলতামাসুল ইসলাম আকন্দ ইকবাল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আগামী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ওসমান গনি, যিনি বলেন, সামাজিক পরিবর্তন ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে কবি ও কবিতার ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি কবিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান সমাজের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে।
আরেক বিশেষ অতিথি কর্নেল আনোয়ার বলেন, কবিরা রূপক ও কল্পনার মাধ্যমে সমাজের বহু সত্য প্রকাশ করেন, যা সাধারণ ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘যে দেশে কবিদের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না, সে দেশ প্রকৃত অর্থে উন্নতি লাভ করতে পারে না।’
আলোচকরা বলেন, কবিতা শুধুমাত্র বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি সমাজ পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। একটি সুন্দর, মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনে কবিদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং কবিতার মাধ্যমে মানুষের সুপ্ত মানবিক গুণাবলী জাগ্রত করতে হবে।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য অধ্যাপক আকবর সিরাজী এবং ছায়ানীড় প্রকাশনীর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক লুৎফুর রহমান দুলাল।
সেমিনারে দেশবরেণ্য পেশাজীবী, সংস্কৃতিকর্মী ও কবিরা অংশ নিয়ে মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। কবিতা আবৃত্তি ও সাহিত্যভিত্তিক আলোচনা আয়োজনটিকে একটি প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন