প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজা থেকে ইসরাইলের দিকে ঘুড়ি, ড্রোন ও বেলুন পাঠানো যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে গাজায় সামরিক অভিযানকে আরও জোরদার করা হবে বলে ইসরাইল হামাসকে সতর্ক করেছে। রোববার ইসরাইল এ বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু হামাস এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র তথ্যে জানা যায়, ইসরাইলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার গাজা সীমান্ত সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় চারটি ঘুড়ি পাওয়া গেছে। রোববার সেনাবাহিনী আরও একটি ঘুড়ি গুলি করে নামিয়েছে। গত কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ১০টি এই ধরনের ঘুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
এই ঘটনায় পূর্বের স্মৃতিগুলি ফিরে এসেছে। তখন গাজা থেকে ইসরাইলের দিকে আগুন ধরিয়ে দিতে সক্ষম ঘুড়ি ও বেলুন পাঠানো হতো। এর জন্য দক্ষিণ ইসরাইলের কৃষিজমিতে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড হয়েছে।
ইসরাইলি গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশটির সামরিক বাহিনী মনে করছে, সাম্প্রতিক সময়ের এসব ঘুড়ি ও অন্যান্য উড়ন্ত বস্তু পাঠানোর পেছনে হামাস রয়েছে। তবে, এগুলোর মধ্যে কোনো বিস্ফোরক ছিল না। ইসরাইলি বাহিনী বিশ্বাস করে যে, ইসরাইলের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে তা যাচাই করতেই এসব পরিবহন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ইসরাইলের দিকে ঘুড়ি, ড্রোন ও বেলুন পাঠানো বন্ধ না হলে এসবের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযানকে আরও জোরদার করবে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
তাঁরা আরো বলেন, যেসব এলাকা থেকে ঘুড়ি, ড্রোন ও বেলুন পাঠানো হচ্ছে, সেসব এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।
রোববার এই ব্যাপারে শীর্ষ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা পরিস্থিতির পর্যালোচনা করেছেন নেতানিয়াহু ও কাটজ।
গাজা সীমান্তবর্তী সম্প্রদায়ের একজন নেতা উরি এপস্টেইন ইসরাইলি চ্যানেল ১২-কে বলেছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর তাঁরা আর ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’—এমন আশ্বাস মেনে নেবেন না। তাঁর মতে, ‘আকাশে সতর্কবার্তা দেখা যাচ্ছে, আর সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া সেনাবাহিনীর দায়িত্ব।’
তবে, হামাস ঘুড়ি ও অন্যান্য উড়ন্ত বস্তু পাঠানোর দায় অস্বীকার করেছে।
হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইম এক বিবৃতিতে বলেন, এসব ঘুড়ি গাজা থেকে শিশুরা উড়িয়েছে। তারা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিজেদের হারানো শৈশব ফিরে পাওয়ার জন্যই এসব করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
অন্য একটি বিবৃতিতে হামাস অভিযোগ করেছে, গাজা থেকে ঘুড়ি ওড়ানোর ঘটনাকে মধ্য গাজায় বিমান হামলার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরাইল। রবিবার ওই বিমান হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন বলে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও উদ্ধারকারী সংস্থা জানিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন