প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মানিকগঞ্জের ঘিওর এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর জেগে ওঠা চরে ভারি খননযন্ত্র (ড্রেজার) স্থাপন করে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ার কারণে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে সেখানে জোরপূর্বক বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। বাধা দেওয়ার পর ৩০ থেকে ৩৫ জন একটি বালুবাহী বলগেটে এসে লোহার রড, পাইপ ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এই হামলায় সাতজন আহত হয়েছেন।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীকে ঘটনাস্থলে আসার জন্য আহ্বান জানানো হয়। মুহূর্তের মধ্যে নারী-পুরুষ লাঠিসোঁটা হাতে সেখানে জড়ো হলে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের পূর্ব কুশন্ডা গ্রামের পাশে কালীগঙ্গা নদীতে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ছয়জনকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর একজন, জাহিদ, প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন- বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের রামেশ্বরপট্টি গ্রামের আবুল কাশেম (৪৫), পলাশ মিয়া (২২), আবদুল মান্নান (৫০), নান্নু মিয়া (৪৫), মো. জাহিদ (২০) এবং বানিয়াজুড়ী ইউনিয়নের জাবরা গ্রামের মো. শামীম মুন্সি (৩৩) ও মো. রুবেল আলী (৩৫)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আহতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূর্ব কুশন্ডা গ্রামের পাশে নদীতে জেগে ওঠা চরে তাদের কয়েকজনের জমি রয়েছে। সেখানে শক্তিশালী খননযন্ত্র বসিয়ে মাটি-বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে দুপুর দেড়টার দিকে তারা স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে উত্তোলন বন্ধ করতে বললে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
আহতদের অভিযোগ, তাদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন কিশোর খননযন্ত্রে উঠে পড়লে বালু উত্তোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা তাদের আটক করে মারধর করেন। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে তারা সেখান থেকে সরে যান। কিছুক্ষণ পর ৩০ থেকে ৩৫ জন লোক একটি বালুবাহী বলগেটে করে এসে তাদের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে রড, পাইপ ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করা হলে সাতজন আহত হন।
পরে হামলার খবর মসজিদের মাইকে ঘোষণা করা হলে আশপাশের গ্রামের নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসেন। স্থানীয়দের মতে, গ্রামবাসী জড়ো হওয়ার আগেই অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যান।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবুল কাশেম মঙ্গলবার সকালে যুগান্তরকে বলেন, কালীগঙ্গার তীরের ওই চরে তাদের প্রায় ১১ বিঘা জমি রয়েছে। সেখানে ভুট্টা, তামাকসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করা হয়। নদীর ভাঙন থেকে জমি রক্ষার জন্য বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ার কারণেই তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে।
আহতরা অভিযোগ করেন, বানিয়াজুড়ী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন, বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের পেচারকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ও জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি সম্রাট মিয়া, সিংজুড়ী গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ছাত্রদল নেতা আল-আমিন এবং সিংজুড়ী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আক্তার হোসেনসহ আরও ২৫ থেকে ৩০ জন হামলায় অংশ নেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা লোকমান হোসেন বলেন, চরের জমির মাটি তারা কয়েকজন কিনে নিয়েছেন। বৈধভাবে মাটি তোলার সময় স্থানীয় কিছু লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। তারা দাবি করেন, চাঁদা চাওয়া হয়েছিল। পরে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।
সাবেক যুবদল নেতা আল-আমিন জানান, নদী থেকে মাটি কাটা হয়নি। শুধুমাত্র নৌকা ভিড়েছিল। নিজেদের জায়গা ভরাটের জন্য মাটি আনার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন মাঝি ও লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের তাড়া করে। পরে ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। তবে কাউকে মারধর করা হয়নি।
ঘিওর থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় সন্ধ্যায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন