প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন, কিছু আসামির গতিবিধি ও কার্যকলাপ সন্দেহজনক। গোপন তথ্য রয়েছে যে, আসামিদের মধ্যে কেউ কেউ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে। এই কারণে ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
এর আগে, গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’র সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির নেতৃত্বে ৫৫টি পরিবারের সদস্যরা চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এসে উপস্থিত হন। তাদের জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু করেছে তদন্ত সংস্থা। ব্রিফিংয়ের সময় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে। কিছু আসামির সন্দেহজনক গতিবিধি ও কার্যকলাপের কারণে সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, বর্তমানে ২৫১ জন গুমের শিকার হওয়ার অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ‘মায়ের ডাক’র ব্যানারে একাধিকবার প্রসিকিউশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে এবং লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সংস্থা কাজ করছে।
আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্তে দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ ঘটনায় একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে বা তাদের মাধ্যমে ব্যক্তিদের তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন নয়, বরং ‘ওয়াইডস্প্রেড’ ও ‘সিস্টেমেটিক’ অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘এগুলো শুধু গুম নয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।’
তদন্ত দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই তদন্ত সম্পন্ন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে কাজ করছে প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা।
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, গুমের মামলাগুলোর তদন্ত শুরুর পর কিছু অভিযুক্ত ব্যক্তির কার্যকলাপ বেড়ে যাওয়ার তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে যাদের বিরুদ্ধে বিচার চলছে, তাদের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি করা যেমন জরুরি, তেমনি গুমের শিকার পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন